বাংলা ভাষা নিয়ে তাদের আন্দোলন নজর এড়ায় না কারোরই। সেই সূত্রেই কখনও জোটে সমর্থন কখনও বা তিরস্কার। তারা বাংলাপক্ষ। কিন্তু গত দু’মাস আগে তারা অসমীয়াদের যেভাবে আক্রমণ করেছিলেন তাতে ধিক্কার উঠেছিল সব জায়গা থেকেই।
জুন মাসে আসামে অহম ও সুকফা সম্প্রদায়কে আপত্তিজনক মন্তব্যের অভিযোগে বাংলা পক্ষের প্রতিষ্ঠাতা গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। এতদিন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিরুদ্দেশ থাকার পর সম্প্রতি টুইটারে নিজের হ্যান্ডেল থেকে গোটা ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করলেন গর্গ। যদিও তাতে চিঁড়ে ভিজল না। টুইটার হ্যান্ডেলে কমেন্ট বক্স দেখলেই সেই প্রমাণ পাওয়া যাবে।
https://twitter.com/GargaC/status/1297056054719569920
ঘটনার সূত্রপাত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালকে টুইটে ট্যাগ করে গর্গ চট্টোপাধ্যায় লেখেন, “কেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী একজন চীনা অনুপ্রবেশকারী ও তার সৈনিকদের নিয়ে রাজ্যে উৎসব উদযাপন করেন? নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফাও কেন চীনা অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন করে? ভারতীয়রা কি জানেন যে ভারতীয়দের করের টাকা ব্যবহার করেই বিজেপি চীনা আক্রমণকারীদের মূর্তি তৈরি করছে আসামে?” এই রকম আরো কয়েকটি টুইট করেন গর্গ। যার ফলে অসমীয়ারা অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গর্গের এই রূপ আচরণ দেখে বহু বাঙালিও তাকে সমর্থন করেননি।
অসম ও সুকফা সম্প্রদায়কে চীনা অনুপ্রবেশকারী বলায় ভাস্কর গগৈ নামে এক অসমীয়া ডিব্রুগড় থানায় গর্গের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন।
এবার সম্প্রতি টুইটারে এসে একটি ভিডিও বার্তায় গর্গ গোটা ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি এও জানিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালকে তিনি চিঠি লিখে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে এরকম বিতর্কিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকবেন।
গর্গ জানিয়েছেন তার বাবার ক্যানসার ধরা পড়েছে। মায়ের শরীরও অসুস্থ তাই তিনি এখন কিছুটা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত আছেন। তিনি সমস্ত অহম ও সুকফা সহ সমস্ত অসমীয়া সম্প্রদায়ের কাছে মন থেকে সর্বান্তকরণে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। তার মন্তব্যে যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন তাহলে তিনি অনুতপ্ত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।





