একসঙ্গে ২৩ জন শীর্ষ নেতা চিঠি দিলেন দলের কার্যকরী সভানেত্রীকে। নজিরবিহীন এই ঘটনা সম্প্রতি ঘটল কংগ্রেসে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসহ দলের প্রায় ২৩ জন শীর্ষ নেতা চিঠি দিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী-কে। কংগ্রেসের অবিলম্বে সংস্কার প্রয়োজন নয়তো দলকে অবিরাম প্রথম থেকে রোধ করা যাবে না, চিঠিতে মূলত এই বক্তব্য রয়েছে বলে জানা গিয়েছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে।
এছাড়াও চিঠিতে আরো লেখা আছে যে, বিজেপি বিগত কয়েক বছরে ভারতে দুর্দান্ত উত্থান ঘটিয়েছে। দেশবাসী এখন নিরপেক্ষভাবে মোদীর পক্ষে ভোট দিচ্ছে। কংগ্রেসের সমর্থন প্রায় কমে এসেছে। সেইজন্যে ভারতের অন্যতম বিরোধী রাজনৈতিক দলকে এখন পুনরুত্থান করতেই হবে। সেইজন্যে দলে পুরো সময় এর কার্যকরী নেতৃত্ব দরকার। এছাড়া ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে, কংগ্রেসের’ মধ্যে সমস্ত স্তরের নির্বাচন আয়োজন করতে হবে এবং রাজ্য কংগ্রেস শাখাগুলোকে ক্ষমতা দিতে হবে।
পুরো সময়ের নেতৃত্ব চাওয়া মানেই বর্তমানে সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাকে প্রশ্ন তোলা, ফলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে যে সোনিয়া গান্ধীর হাত থেকে ধীরে ধীরে ক্ষমতা বেরিয়ে যেতে শুরু করেছে। চিঠিতে রাহুল গান্ধীর নামে সরাসরি সমালোচনা না করলেও রাহুলের তৈরি করা যুব কংগ্রেস এবং ছাত্র শাখায় নির্বাচনের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। এই নেতাদের দাবি, এই নির্বাচন শুরু হওয়ার ফলে দলে ‘বিরোধ ও বিভাজন’ বেড়েছে।
এই পত্র বোমার ফলে দলে খুব জলদি একটি বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল হতে চলেছে বলে মনে করছে ওই সর্ব ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। সোমবারই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির একটি অনলাইন বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকের পরই এই বিষয়ে কোনও বড় ঘোষণা করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আনন্দ শর্মা, কপিল সিবল, মণীশ তিওয়ারি, শশী থারুর, সাংসদ বিবেক তাংখা, এআইসিসি তথা ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য জিতিন প্রসাদ এবং মুকুল ওয়াসনিক, রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গোলাম নবি আজাদ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুডা, , পৃথ্বীরাজ চৌহান, রেণুকা চৌধুরী, এবং মিলিন্দ দেওরা, প্রাক্তন রাজ্যসভাপতি রাজ বব্বর (উত্তরপ্রদেশ), অরবিন্দর সিং লাভলি (দিল্লি); বিহারের বর্তমান প্রচার প্রধান অখিলেশ প্রসাদ সিং, হরিয়ানার প্রাক্তন স্পিকার কুলদীপ শর্মা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ।





