পশ্চিমবঙ্গে তো একের পর এক দুর্নীতির কথা উঠে আসছেই প্রতি মুহূর্তে। এবার দুর্নীতিতে নাম জড়াল বামশাসিত কেরলেরও। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড়সড় দুর্নীতি অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে। এই দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে কেরলের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজার। ১৬০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে।
বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন এই কে কে শৈলজা। বর্তমানে মন্ত্রিত্ব খুইয়েছেন তিনি। এর আগে নিপা ভাইরাস থেকে রাজ্যকে রক্ষা করেন তিনি। এমনকি, করোনা মোকাবিলাতেও কেরলের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর দক্ষতার প্রশংসা করা হয়ে আমেরিকা, ব্রিটেনের তরফে। কিন্তু এবার তাঁর বিরুদ্ধেই উঠল চরম দুর্নীতির অভিযোগ।
অভিযোগ, করোনা অতিমারির সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকার সময় PPE কিট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যক্ষেত্রের সামগ্রী কেনার নাম করে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এই কে কে শৈলজা। ৫০০ টাকা PPE কিট ১৫০০ টাকায় কেনার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে ১৬০০ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন তিনি, এমনটাই অভিযোগ। স্থানীয় কংগ্রেস নেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে কেরলের Lok Ayukta-র তরফে কে কে শৈলজাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
এই দুর্নীতির কথা জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা কেরলে। এই ঘটনায় কেরলের মুখ্যমন্ত্রীরও যুক্ত থাকার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। করোনা মোকাবিলায় দক্ষতার সঙ্গে রাজ্যবাসীকে রক্ষা করে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন কে কে শৈলজা। কিন্তু এখন তাঁর বিরুদ্ধেই এই দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় ক্ষোভ জন্মেছে রাজ্যবাসীর মনে।
এই ঘটনায় সাফাই দিয়ে কে কে শৈলজা বলেন, “PPE কিট শেষ হয়ে গিয়েছিল। সেই কারণে চিকিৎসকদের প্রাণ বাঁচানোর স্বার্থে ৫০০ টাকার সামগ্রী ১৫০০ টাকায় ক্রয় করতে হয়েছে। এসব কিছু মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তারপরেই ক্রয় করি। এর সঙ্গে দুর্নীতির কোন রকম সম্পর্ক নেই। মোট ১৫ হাজার কিট কেনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বেশ কিছু বাতিলও করা হয়”। এই ঘটনায় আর কী কী নতুন তথ্য উদঘাটন হয়, এখন সেটাই দেখার।





