করোনা রুখতে এবার তৎপর হল জিটিএ। শুধু বিদেশি নয়, দেশীয় পর্যটকদেরও ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত জিটিএ এলাকায় ঢুকতে
বারণ করা হল। যে পর্যটকরা এখন পাহাড়ে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত পাহাড় ছাড়তে অনুরোধ করা হয়েছে। করোনাভাইরাস রুখতে বুধবার লালকুঠিতে জেলা প্রশাসন ও পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের নিয়ে বৈঠক করেন জিটিএ
চেয়ারম্যান অনিত থাপা। কোনও গাড়ি চালক যাতে পর্যটকদের নিয়ে পাহাড়ে না আসেন তা দেখার জন্য জেলা প্রশাসনের
কাছে অনুরোধ জানান। গাড়িচালকদেরও হুঁশিয়ারি দেন যাতে তারা পর্যটক না নিয়ে আসেন।
পাহাড়ের হোটেল মালিকদের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত কোনও টাকা পয়সা না কেটেই সমস্ত বুকিং বাতিল করার জন্যে অনুরোধ
জানান তিনি। এখন যাঁরা বিভিন্ন হোটেলে রয়েছেন, তাঁদেরও হোটেল ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে বলা হয়েছে
মালিকদের। পাশাপাশি এই মুহূর্তে পাহাড়ে কোনও সমাবেশ-মিছিলের অনুমতি না দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ
জানিয়েছেন জিটিএ কর্তৃপক্ষ।
সিকিম যাওয়া বন্ধ হয়েছে আগেই। এ বার দার্জিলিঙেও বিধিনিষেধ। মঙ্গলবারই করোনা আশঙ্কায় অনেকগুলি জনপ্রিয়
পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় জিটিএ। অনির্দিষ্ট কালের জন্য মহানন্দা অভয়ারণ্য, সিঞ্চল অভয়ারণ্য ও সিঙ্গালিলা
অভরারণ্যে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় টাইগার হিলে সূর্যোদয় দেখা ও সান্দাকফু রুটে
ট্রেকিংও।দার্জিলিং শহরের ভেতর পদ্মজা নাইডু ন্যাশনাল পার্ক ও হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউটও বন্ধ রাখার
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পর্যটন মরসুমে দার্জিলিঙে ভিড় জমান দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। এবার করোনা আশঙ্কাতেও তার নড়চড় হয়নি। বরং
সিকিমে প্রথমে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ায় ভিড় বেড়েছে দার্জিলিঙে। তাই রোগ সংক্রমণ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন
জিটিএ কর্তৃপক্ষও। ভরা মরসুমে পর্যটক না এলে অর্থনীতিতে বড় আঘাত আসবে জেনেও বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা
ভেবেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে জিটিএ।





