কিছুদিন আগেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ লখনউয়ে লুলু মলের উদ্বোধন করেন। সেই মলের ভিতরে নমাজ পাঠ করার ভিডিওকে কেন্দ্র করে শুরু তুমুল বিতর্ক। এই প্রতিবাদে হিন্দু মহাসভার তরফে হুঁশিয়ারি শানানো হয় যে তারা এই মলে সুন্দরপাঠ করবেন। এমনকি, হনুমান চল্লিশা পাঠ করা হবে এই মলের মধ্যে এমন দাবীও তোলা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিও-কে কেন্দ্র করে। গত ১১ই জুলাই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ লখনউতে লুলু মলের উদ্বোধন করেন। ২২ লাখ বর্গফুটের এই মলটিতে ছয় হাজার বর্গফুটের একটি ফান পার্ক রয়েছে। আছে ৪০টি রেস্তরাঁ। আরবের ধনকুবের ইউসুফ আলি এই মলের জন্য হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। উদ্বোধনের পরই সেখানে ভাইরাল হয় একটি ভিডিও। এই ভিডিওতে দেখা যায় ওই মলের ভিতর নমাজ পড়ছেন কিছু মানুষ।
এই ভিডিও সামনে আসতেই এর প্রতিবাদ জানানো হয় হিন্দু মহাসভার তরফে। এই সংগঠনের মুখপাত্র শিশির চতুর্বেদী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে ওই মলে যখন নমাজ পাঠ করা হয়েছে, তাহলে সেখানে সুন্দরপাঠও করা হবে। অন্যদিকে, অযোধ্যার হনুমানগড়ির মহন্ত রাজু দাস জানান যে তিনি সকলকে নিয়ে ওই মলে গিয়ে হনুমান চল্লিশা পাঠ করবেন। এমনকি, তিনি এও অভিযোগ করেন যে ওই মলের অধিকাংশ কর্মচারীই মুসলিম। তাঁর কথায়, ওটা কোনও মল নয়, মসজিদ তৈরি করা হয়েছে।
এই বিতর্কের মাঝেই লখনউয়ের লুলু মলের কর্তৃপক্ষের তরফে নির্দেশিকা দিয়ে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় এই মলের মধ্যে কোনও ধরণের কোনও ধর্মীয় আচার পালন করা যাবে না। নমাজ পড়া, বা হনুমান চল্লিশা পাঠ, কোনওটাই করা যাবে না মলের মধ্যে।
বলে রাখি, কিছুমাস আগেই মসজিদের বাইরে লাউডস্পিকার সরানোর দাবী তুলেছিলেন মহারাষ্ট্রের নবনির্মাণ সংঘ প্রধান রাজ ঠাকরে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে মসজিদ থেকে যতক্ষণ না লাউডস্পিকার সরানো হচ্ছে, ততক্ষণ মসজিদের সামনে হনুমান চল্লিশা পাঠ করে প্রতিবাদ জানানো হবে।
রাজ ঠাকরে সেই সময় বলেছিলেন, “মুম্বইয়ে ১১৪০টি মসজিদ রয়েছে। যার মধ্যে ১৩৫টি মসজিদে বুধবার সকালে লাউডস্পিকার বাজানো হয়েছে। আপনারা (মহারাষ্ট্র সরকার) আমাদের কর্মীদের আটক করছেন, নোটিশ পাঠাচ্ছেন, এই মসজিদগুলির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন? আমাদের কেন টার্গেট করা হচ্ছে”?





