রাজ্যে অপরাধ দমনে তৎপর যোগী আদিত্যনাথ, এক বছরেই বাজেয়াপ্ত ২৫ মাফিয়ার ১১২৮ কোটি টাকার সম্পত্তি!

উত্তরপ্রদেশে মাফিয়াদের দমন করতে উঠেপড়ে লেগেছে সে রাজ্যের প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশেই মাফিয়াদের বিরুধে নেওয়া হচ্ছে কড়া পদক্ষেপ। গত এক বছরেই ২৫ জোন মাফিয়ার ১,১২৮ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কুখ্যাত মাফিয়া আতিক আহমেদ ও মুখতার আনসারির।

এই বিষয়ে এডিজি প্রশান্ত কুমার জানান এপ্রিল ২০২০ থেকে এখনও পর্যন্ত ২৫ জন মাফিয়ার ২২ হাজার ২৫৯ জন সহযোগীর বিরুদ্ধে গ্যাংস্টার আইন অনুযায়ী প্রায় ৫,৫৫৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরই সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অবৈধভাবে বানানো তাদের নানান সম্পত্তি। সেই ধাক্কা সামলাতে সামলাতেই তারা পরবর্তীকালে অপরাধ করা ভুলে যাবে বলে মনে করছেন এডিজি প্রশান্ত কুমার।

গুজরাটের সবরমতি জেলের বন্দি তথা বিধায়ক রাজু পালের হত্যার অভিযোগ ছিল মাফিয়া আতিক আহমেদের গোষ্ঠীর ৮৯ জনের বিরুদ্ধে। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আতিকের সহযোগীদের প্রায় ৩ কোটি ২৫ লক্ষেরও বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর। এছাড়াও, সেই গোষ্ঠীর ৬০ জন সদস্যের অস্ত্র লাইসেন্স বাতিল ও তাদের বিরুদ্ধে ২১টি মামলাও দায়ের করা হয়েছে বলে খবর। শুধু তাই-ই নয়, ইতিমধ্যেই এদের মধ্যে ৯ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

আরও পড়ুন- ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের জের, পাকিস্তানে অগ্নিমূল্য ওষুধ থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস 

অন্যদিকে, পঞ্জাবের জেলে বন্দি উত্তরপ্রদেশের গাজীপুরের বিধায়ক তথা বহুজন সমাজ পার্টির প্রাক্তন বিধায়ক মুখতার আনসারি রয়েছে যোগী সরকারের মাফিয়া তালিকার ঠিক দ্বিতীয় নম্বরেই। মুখতারের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই নানান ফতোয়া জারি করছে যোগী সরকার যাতে সে কড়া শাস্তি পায়। জানা গিয়েছে, মুখতারের গোষ্ঠীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ১০২টি মামলা জারি করা হয়েছে ও ইতিমধ্যেই ১৫৮ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশে আরও অনেক মাফিয়া রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে যোগী সরকার কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে। রাজ্যে অপরাধ দমন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবী। তবে এই কারণে যোগী সরকারকে নানান সমালোচনার মুখেও পড়তে হচ্ছে। তবে সেসবের তোয়াক্কা না করেই যোগী আদিত্যনাথ মাফিয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। এমনকি, প্রয়োজনে এনকাউন্টারের কথাও বলা হয়েছে।

RELATED Articles