ফের আরও একটি বড় ঘোষণা করা হল মোদী সরকারের তরফে। গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান যে ২০২৩ অর্থাৎ আগামী বছরের মধ্যেই ভাররতে তৈরি হয়ে যাবে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। এদিন ওড়িশার এসওএ বিশ্ববিদ্যালয়ে রেলমন্ত্রী জানান যে ভারতীয় রেল গতিশক্তি টার্মিনালস পলিসির অধীনে রেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে। বেশ ভালো গতিতেই কাজ চলছে।
রেলমন্ত্রী আরও বলেন, “হাইস্পিড বন্দে ভারত ট্রেনগুলিকে ভারতে দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল এবং এই ট্রেনগুলি গত দুই বছর ধরে কোনো বড় ধরণের ত্রুটি ছাড়াই চলছে”। তিনি বলেন যে এই জাতীয় আরও বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন আইসিএফ-এ তৈরি করা হচ্ছে। শীঘ্রই এই ট্রেনগুলির পরিষেবা শুরু করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বলে রাখি, এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র জার্মানেই তৈরি হয়েছে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন রয়েছে। চলতি বছরেই জার্মানি হাইড্রোজেন চালিত যাত্রীবাহী ট্রেনের প্রথম পর্যায় চালু হয়েছে ইতিমধ্যেই। ফরাসি কোম্পানি আলস্টম ৯২ মিলিয়ন ডলার খরচ করে তৈরি করা হয়েছে ১৪টি ট্রেন।
এর আগে ট্রেন ও ট্র্যাক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে রেলমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ট্রেন তৈরি করা নয়। পাশাপাশি, আমরা ট্র্যাক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমেও কাজ করছি, যাতে সেমি হাই স্পিড ট্রেন চালানো যায়। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের ট্রায়াল রানে আমরা দেখিয়েছি যে ১৮০ কিলোমিটার বেগে চলমান একটি ট্রেনে একটি জল ভর্তি গ্লাস রাখা হয়েছিল এবং সেটি একটুও নড়েনি। যা সমগ্ৰ বিশ্বকে অবাক করেছে”।
অশ্বিনী বৈষ্ণব আরও জানান যে বন্দে ভারতের সফল ট্রায়ালের পর বাকি ৭২টি ট্রেন প্রস্তুত করা শুরু হবে। তিনি বলেন, “তৃতীয় বন্দে ভারত ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার। এটি ৫২ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগ তুলতে সক্ষম হবে। যেখানে বুলেট ট্রেন এই গতি ৫৫ সেকেন্ডে তুলতে পারে। এদিকে, প্রথম প্রজন্মের বন্দে ভারত ট্রেনগুলি ৫৪.৬ সেকেন্ডের মধ্যে এই গতি তুলতে পারে এবং ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার গতিতে চলতে পারে”। বলে রাখি, বর্তমানে দু’টি বন্দে ভারত ট্রেন চলছে।





