তৃণমূলের (TMC) নানান দুর্নীতির (corruption) বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার নবান্ন অভিযানের (Nabanna Abhiyan) ডাক দেয় বিজেপি। সেই অভিযানকে ঘিরে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মিছিলে বিজেপি কর্মীদের উপর পুলিশের নির্যাতন ও গ্রেফতারি নিয়ে আগেও সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার ফের একবার তৃণমূলের দিকে নানান তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা।
নবান্ন অভিযান নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “নবান্ন অভিযানের দিন চটি পরা জেহাদিরা আক্রমণ চালিয়েছিল। ওখানে কে পুলিশ আর কে বহিরাগত, তা বুঝে ওঠার কোন রকম উপায় ছিল না”।
পরবর্তীতে পূর্ব মেদিনীপুরের চন্ডিপুরে একটি দলীয় সভায় যোগদানের মাধ্যমে বিরোধী দলনেতা জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কে আমি বহু জিনিস জানি। অন্য কেউ এই প্রসঙ্গে অতটা অবগত নয়। বর্তমানে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডলকে ফাইভ স্টার বেনিফিট দেওয়া হয়ে চলেছে। তবে আর কতদিন? এবার দিল্লিতে তিহারে গিয়ে থাকতে হবে”।
প্রসঙ্গত, বিজেপির নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে হাওড়া ও কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশে বেশ ধুন্ধুমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। নানান জেলায় বেশ বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে আসে। একদিকে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানকে মারধরের ছবি যেমন সামনে আসে, তেমনই আবার অনেক বিজেপি কর্মীর উপর হামলা ও গ্রেফতারের অভিযোগও ওঠে পুলিশ।
সাঁতরাগাছি থেকে বিজেপির মিছিল শুরু হওয়ার পর সেখানে বেঁধে যায় ধুন্ধুমার কাণ্ড। সেই মিছিল থেকে গ্রেফতার করা হয় শুভেন্দু অধিকারী ও লকেট চট্টোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে, হাওড়া ময়দান থেকে বিজেপির যে মিছিল বেরোয়, সেই মিছিল থেকেও আটক করা হয় বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
পরবর্তীতে লালবাজার থেকে ছাড়া পেয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমাদের বহু কর্মী সমর্থক জখম হয়েছে। পুলিশ যেভাবে আমাদের উপর অত্যাচার করেছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক”। শুধু তাই-ই নয়, একাধিক বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা তৃণমূলের সরকারের উপর ক্ষোভ উগড়ে দেন। বিজেপির নবান্ন অভিযান ও পুলিশের অত্যাচার নিয়ে বিজেপি ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সেই কমিটির রিপোর্ট তুলে দেওয়া হবে কেন্দ্রের হাতে।





