India pakistan war : ত্রিমুখী হামলার মাঝেই চুপিসারে যুদ্ধপরিকল্পনা! সেনা প্রধানদের সঙ্গে রাজনাথের বৈঠকে কী হল আসলে?

বর্তমানে রাত যত গড়াচ্ছে, ততই যেন ছড়িয়ে পড়ছে উদ্বেগ আর আশঙ্কা। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে একের পর এক ভিডিও, যার মধ্যে দেখা যাচ্ছে বিস্ফোরণ, ধ্বংসস্তূপ আর জ্বলন্ত ভবনের ছবি। সাধারণ মানুষের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ, কেউ বলছেন যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, তো কেউ প্রার্থনা করছেন দেশের সুরক্ষার জন্য। অনেকে আবার স্মরণ করছেন ২০১৯ সালের ‘বালাকোট অ্যাটাক’-এর কথা। তখনও এমন এক রাতেই বদলে গিয়েছিল দুই দেশের কূটনৈতিক সমীকরণ। সেই স্মৃতি ফিরে এসেছে আবার।

দেশজুড়ে এখন একটাই আলোচনার বিষয়—ভারত কি আবার যুদ্ধ ঘোষণা করবে? নাকি এটা শুধুই একটা ‘লিমিটেড মিলিটারি রেসপন্স’? প্রত্যেকটি পরিবার, যাদের সন্তানরা সেনাবাহিনীতে, তারা উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে, বহু মানুষ খুশি দেশের এমন জবাবি পদক্ষেপ দেখে। তাঁদের মতে, “বারবার মার খেয়ে চুপ থাকলে চলবে না, এবার উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে।”

শুক্রবার সাউথ ব্লকে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, সেনা প্রধানদের সঙ্গে। উপস্থিত ছিলেন সেনা সর্বাধিনায়ক অনিল চৌহানও। এই বৈঠকের একটি ছবিতে সকলের মুখেই দেখা গেছে মৃদু হাসি—যা ঘিরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে মূলত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি পাকিস্তানের পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও চিন্তাভাবনা করা হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

বৃহস্পতিবার রাত বাড়তেই ভারত জল, স্থল এবং আকাশপথে একযোগে হামলা চালায়। এই হামলায় পাকিস্তানের ১৬টিরও বেশি শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। করাচি বন্দরে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে, অন্তত ৮ থেকে ১২টি বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আইএনএস বিক্রান্ত এই হামলায় মূল ভূমিকা নেয় বলে সূত্রের দাবি। একইসঙ্গে ইসলামাবাদেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। এদিকে পাকিস্তান জম্মু সীমান্ত বরাবর ড্রোন এবং গুলির সাহায্যে পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Cyber attack : এক ক্লিকেই সর্বনাশ! পাকিস্তানের সাইবার হানার নতুন অস্ত্র ‘Dance of Hillary’, সতর্ক না থাকলেই বিপদ!

শুক্রবার সকালে নিজের বাসভবনে বিএসএফ ও সিআইএসএফ প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আলোচনায় মূলত দেশের ২৮টি বিমানবন্দর বন্ধ করার সিদ্ধান্ত এবং বাকি বিমানবন্দরগুলির নিরাপত্তা আরও কড়া করার পরিকল্পনা হয়। এই অপারেশনের পরে দেশের অভ্যন্তরে হামলার আশঙ্কায় কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ও রাজ্য পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে, এই মুহূর্তে উপমহাদেশ কার্যত যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে রয়েছে—আর পাকিস্তান দিশাহীন, বিধ্বস্ত ও চরম চাপে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর