কাশ্মীর অনেকটা যেন বদলাতে শুরু করেছিল। উন্নয়নের ছোঁয়া, পর্যটনের জোয়ার, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নতুন দিশা—সব মিলিয়ে যেন অতীতের রক্তাক্ত স্মৃতিকে ছাপিয়ে নতুন পথে এগোচ্ছিল উপত্যকা। কিন্তু হঠাৎই সেই ছবিতে ফিরে এল ভয়াবহ সন্ত্রাসের ছায়া। আবার আতঙ্ক, আবার রক্ত, আবার মৃত্যু। সাধারণ মানুষ যেন বুঝেই উঠতে পারছে না—এবার কতদিন চলবে এই অন্ধকারের যাত্রা।
এই হামলা ছিল পরিকল্পিত, উদ্দেশ্য ছিল একটাই—হিন্দুদের নিশানা করা। এমনটাই দাবি করছেন গোয়েন্দা আধিকারিকরা। কাশ্মীর উপত্যকার ভিতরে থাকা সন্ত্রাসবাদীরা আগেই টার্গেট স্থির করেছিল বলে খবর। হিন্দু তীর্থযাত্রীদের উপর অতর্কিত এই আক্রমণ আসলে উপত্যকায় ফের ধর্মীয় বিভেদ ও সন্ত্রাস ছড়ানোর বড় চেষ্টা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ এখন চরমে।
ঘটনাটি ঘটেছে অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামে। রবিবার সন্ধ্যায় একটি মিনিবাসে করে হিন্দু তীর্থযাত্রীরা যাচ্ছিলেন এক মন্দিরের উদ্দেশে। আচমকাই জঙ্গিরা তাঁদের উপর চালায় গুলিবর্ষণ এবং বিস্ফোরণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার সময় জঙ্গিরা যাচাই করছিল কারা হিন্দু, তারপরেই চালানো হয় হামলা। এই ঘটনায় গোটা দেশ শোকস্তব্ধ, রাগে ফুঁসছে দেশবাসী।
হামলার পরই কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারত সরকার। সেনা, বায়ুসেনা, নৌসেনাকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে ইতিমধ্যেই মোতায়েন বেড়েছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ভাবনায় রয়েছে কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, দিল্লির ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমেরিকা, ইজরায়েল, রাশিয়া—সবাই ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও শ্রীলঙ্কাও ভারতকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Weather update: এবার গরম থেকে স্বস্তি! দক্ষিণবঙ্গে টানা বৃষ্টি, শুরু কবে থেকে? কি বলছে হাওয়া অফিস?
ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। করাচি ও ইসলামাবাদে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়। রাস্তায় নামে সেনা, কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এটি ভারতের সাইবার প্রতিক্রিয়া। পাকিস্তানের তরফে কোনও ব্যাখ্যা না আসায় আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এবার যুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ গভীর অনিশ্চয়তার দিকে গড়াতে পারে।






