India – pakistan : ‘আমাদের ভূখণ্ডের প্রতি লোভ না করে দখলকৃত জমি ছাড়ুক’—রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতের!

আন্তর্জাতিক মহলে ফের মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। নিজেদের ভেতরকার অশান্তি ও ব্যর্থতাকে ঢাকতে অন্য দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার যে কৌশল ইসলামাবাদ বহু বছর ধরে চালিয়ে আসছে, সেটিই এবার উলটে গেল তাদের বিপক্ষে। রাষ্ট্রসংঘের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে কটাক্ষ করে জানাল, যারা নিজেদের মানুষকেই রক্ষা করতে পারে না, তারা অন্য দেশের বিরুদ্ধে কথা বলার নৈতিক অধিকার রাখে না।

রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধি ক্ষীতিজ ত্যাগী পাকিস্তানকে একহাত নেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারতের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদের সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন এবং উসকানিমূলক। বরং পাকিস্তানকে উচিত নিজেদের দখল করা ভারতীয় ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া এবং মানবাধিকার রক্ষার দিকে মনোযোগী হওয়া। তাঁর কথায়, সামরিক আধিপত্য আর জঙ্গি কার্যকলাপের আশ্রয় নেওয়া বন্ধ না করলে দেশটির প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থাই ক্রমশ নষ্ট হবে।

ক্ষীতিজ তাঁর বক্তব্যে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক ভয়ঙ্কর ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। মাত্র দু’দিন আগেই পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিজেদের সেনার বোমা হামলায় প্রাণ হারান প্রায় ৩০ জন সাধারণ মানুষ। নিহতদের মধ্যে ছিল মহিলা ও শিশুরাও। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করেই ভারত প্রশ্ন তোলে—একটি দেশ যারা নিজেদের মানুষকেই রক্ষা করতে অক্ষম, তারা কিভাবে মানবাধিকার নিয়ে বড় বড় কথা বলে?

ভারতের তরফে বারবারই বলা হয়েছে, পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘ চিহ্নিত জঙ্গিদের আশ্রয় দেয় এবং সন্ত্রাসবাদকে রপ্তানি করে। এবারও একই সুরে আক্রমণ শানিয়ে ক্ষীতিজ জানান, ইসলামাবাদ শুধু জঙ্গিদের লালন-পালনই করে না, প্রয়োজনে নিজেদের মানুষকেও বোমা মেরে হত্যা করতে পিছপা হয় না। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে স্পষ্ট বার্তা—ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের ভেতরের ব্যর্থতা এবং সন্ত্রাসবাদকে লাগাম দেওয়া।

আরও পড়ুনঃ Weather: কলকাতার আকাশে ফের বৃষ্টি, পুজোর আনন্দে ভাঁটা পড়বে?

রবিবার গভীর রাতে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর ফাইটার জেট থেকে একের পর এক এলএস-৬ বোমা ফেলা হয় খাইবার পাখতুনখোয়ার তিরহা উপত্যকার মাত্রে দারা গ্রামে। মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় গোটা গ্রাম। সরকার দাবি করে, তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তান জঙ্গিদের টার্গেট করেই অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, প্রাণ হারিয়েছেন নিরীহ সাধারণ মানুষ। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর রাষ্ট্রসংঘে ভারতের কটাক্ষ যেন ইসলামাবাদের জন্য বাড়তি চাপে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলও প্রশ্ন তুলছে—যে দেশ নিজের নাগরিকদেরই নিরাপত্তা দিতে অক্ষম, তারা অন্য দেশের ভূখণ্ডের দিকে তাকানোর সাহস কোথা থেকে পায়?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles