কলকাতার জলযন্ত্রণা এখনও মুছে যায়নি। রাস্তায় হাঁটু জলের স্মৃতি একদিনও পুরোনো হয়নি। সোমবার রাতের টানা বৃষ্টিতে যে বিপর্যয় নেমে এসেছিল, তার দাগ বুধবার সকালেও স্পষ্ট। কোথাও কোথাও জল এখনও বসে রয়েছে, যদিও বেশিরভাগ জায়গায় ধীরে ধীরে নেমে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এই অবস্থা কি এখানেই থামবে? নাকি ফের ভিজবে শহর?
আবহাওয়া দফতর বুধবার সকালে জানিয়েছে, অন্তত আগামী ২৪ ঘণ্টা কলকাতার আকাশ মেঘলা থাকবে। হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুতেরও পূর্বাভাস আছে। শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ঘুরেফিরে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকবে, আর সর্বনিম্ন প্রায় ২৬ ডিগ্রির মতো। আপাতদৃষ্টিতে সংখ্যাটা স্বাভাবিক মনে হলেও, বৃষ্টির কারণে গুমোট অস্বস্তি কমার কোনো লক্ষণ নেই।
গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ২৮.৪ ডিগ্রিতে, যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৪ ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন ছিল ২৫.৬ ডিগ্রি, যা সামান্য কম হলেও শরীরের ঘেমো অস্বস্তি কমাতে পারেনি। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ভয়ঙ্করভাবে বেশি—সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ৯০ থেকে ৯৮ শতাংশ। এর সঙ্গে মিলেছে টানা বৃষ্টির ধাক্কা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৭.৬ মিলিমিটার। তার বাইরে আরও ৩.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে আলাদা হিসাবে।
কিন্তু আসল বিপদটা এখানেই শেষ হচ্ছে না। দক্ষিণবঙ্গের অন্তত পাঁচটি জেলায় বুধবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম আর বাঁকুড়ায় নতুন করে বৃষ্টি নামতে পারে। আর এখানেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে আরেকটা খবর। বঙ্গোপসাগরে ফের তৈরি হচ্ছে নতুন নিম্নচাপ। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই নিম্নচাপ সক্রিয় হলে আসন্ন পঞ্চমীর দিন ফের ভিজতে পারে গোটা বাংলা। শুধু তাই নয়, দুর্গাপুজোর চারটে দিনও এই বৃষ্টি চলতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে।
এমনটা হলে কলকাতার পুজোর আনন্দে বড়সড় ধাক্কা লাগতে চলেছে। বছরের সবচেয়ে বড় উৎসব, যেখানে আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে থিমের প্যান্ডেল ঘুরে দেখা বাঙালির বারো মাসের অপেক্ষার বিষয়। কিন্তু টানা বৃষ্টি আর জল জমে যদি সেই উৎসবকে বিঘ্নিত করে, তাহলে উৎসব মানেই আনন্দের বদলে পরিণত হবে দুর্ভোগে।
প্রশ্ন উঠছে—বারবার একই গল্প কেন? প্রতিবার পুজোর মরশুমেই নিম্নচাপ এসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় শহরকে। কলকাতার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্রশাসনের প্রস্তুতি, নাকি ভাগ্যের পরিহাস—দোষারোপের খেলা অবশ্যই চলবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ জানে, শেষ পর্যন্ত ভুগতে হবে তাদেরই। বৃষ্টিতে ভিজে প্যান্ডেল দেখা হয়তো রোমান্টিক শোনায়, কিন্তু হাঁটু জলের মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকা, বিদ্যুতের ভয় আর রাস্তার বিপর্যস্ত চেহারা সেই রোমান্টিকতা মুহূর্তে গিলে নেয়।
আরও পড়ুনঃ Astrology: দেবী চন্দ্রঘণ্টার আশীর্বাদে সৌভাগ্য আসবে ৫ রাশির জীবনে
সুতরাং, বুধবারের মেঘলা আকাশ শুধু আজকের জন্য নয়, আগামী কয়েক দিনের আশঙ্কার ইঙ্গিতও বহন করছে। এখন দেখার, আবহাওয়া দফতরের ভবিষ্যদ্বাণী কতটা মেলে, আর বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব কতটা বৃষ্টির করুণায় ভিজে যায়।





