দেশে দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে শুরু হতে চলেছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা। আজ, ১ এপ্রিল থেকে দেশের কিছু নির্বাচিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই প্রক্রিয়ার সূচনা হচ্ছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই নতুন পদ্ধতি শুধু তথ্য সংগ্রহের ধরনই বদলাবে না, বরং ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণেও বড় ভূমিকা নেবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ডিজিটাল সেন্সাস নিয়ে কৌতূহল যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে নানা প্রশ্নও।
প্রথম ধাপে শুরু হচ্ছে ‘হাউস লিস্টিং ও হাউজিং সেন্সাস’। এই পর্যায়ে মূলত বাড়ির অবস্থা ও গৃহস্থালির পরিকাঠামো সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পানীয় জলের ব্যবস্থা, শৌচালয়, রান্নাঘর, গ্যাস সংযোগ, ইন্টারনেট সুবিধা, এই সব বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাড়িতে ফ্রিজ, মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন বা স্মার্টফোনের মতো আধুনিক সুবিধা আছে কি না, তাও নথিভুক্ত করা হবে। মোট ৩৩টি প্রশ্ন থাকবে এই পর্যায়ে, যা দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরতে সাহায্য করবে।
এই ডিজিটাল সেন্সাসের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল স্ব-নিবন্ধনের সুযোগ। সাধারণ মানুষ চাইলে নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে নিজেই নিজের তথ্য জমা দিতে পারবেন। তথ্য জমা দেওয়ার পর একটি ইউনিক সেলফ-এনুমারেশন আইডি দেওয়া হবে, যা পরে গণনাকারীদের দেখাতে হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে কোনও ধরনের নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই এবং সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে সমস্ত তথ্য গোপন রাখা হবে। প্রায় ৩০ লক্ষ গণনাকারী বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে এই কাজ সম্পন্ন করবেন, যা ইন্টারনেট ছাড়াও কাজ করতে সক্ষম, ফলে প্রত্যন্ত এলাকাতেও এই কাজ সহজ হবে।
দ্বিতীয় ধাপে হবে ‘পপুলেশন এনুমারেশন’, যেখানে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। নাম, বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা, পেশা, ধর্ম, বৈবাহিক অবস্থা, এই সমস্ত তথ্য জানতে চাওয়া হবে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, লিভ-ইন সম্পর্ককেও এই গণনায় ‘বিবাহিত’ হিসেবে ধরা হতে পারে, যদি সেই সম্পর্ক স্থায়ীভাবে একসঙ্গে থাকার নির্দেশ করে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার মনে করছে, সমাজের পরিবর্তিত বাস্তবতাকে স্বীকার করতেই এই পদক্ষেপ।
আরও পড়ুনঃ সকাল ৬টায় ভয়ং*কর ইমেল! রাতারাতি ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই, ভারতের অফিসে আতঙ্কের ছায়া!
প্রথম পর্যায়ে কাজ শুরু হচ্ছে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, দিল্লি, গোয়া, কর্ণাটক, লাক্ষাদ্বীপ, মিজোরাম, ওড়িশা এবং সিকিমে। ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য অংশেও এই প্রক্রিয়া চালু করা হবে। পুরো জনগণনা দু’টি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে, প্রথমটি ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এত বড় আকারে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা এই প্রথম, ফলে প্রশাসনের কাছেও এটি এক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সঠিকভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দেশের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা আরও বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।





