‘আমার স্ত্রীকে অর্ধন’গ্ন করে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে’, সাহায্যের আর্তি কাশ্মীরে কর্তব্যরত ভারতীয় জওয়ানের, পুলিশ বলল, ‘সব বানানো’

দেশের জওয়ানরা সীমান্ত রক্ষা করছেন বলেই আমরা নিশ্চিন্তে দিন কাটাতে পারি। তারাই আমাদের সুরক্ষা দেন। আর এর জন্য নিজেদের পরিবারের থেকে দূরেই থাকতে হয় তাদের। কিন্তু জওয়ানদের স্ত্রী, পরিবারই সুরক্ষিত না থাকেন, তাহলে তো মানুষ সেনাবাহিনীর উপর থেকেই আস্থা হারাবেন। আর এমনই এক ঘটনা ঘটল তামিলনাড়ুতে।

প্রভাকরণ নামে এক ভারতীয় জওয়ানের একটি ভিডিও সামনে এসেছে। সেই ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেছেন যে প্রায় ১২০ জন ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী-র উপর হামলা চালিয়েছে। তাঁর স্ত্রী-কে অর্ধন’গ্ন করে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই জওয়ানের স্ত্রী-র দোকানেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

ভাইরাল ভিডিওতে প্রভাকরণকে বলতে শোনা যায়, “আমার স্ত্রী ভাড়ায় একটি দোকান চালান। ১২০ জন পুরুষ তাঁকে নৃশংসভাবে মারধর করেছে। দোকানের জিনিসপত্র ছুঁড়ে ফেলে তাঁরা। পুলিশ সুপারকে অভিযোগ জানিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ডিজিপি স্যর, দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন। ওরা হামলা করেছে। আমার পরিবারকে ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। আমার স্ত্রীকে অর্ধনগ্ন করে নৃশংস ভাবে মারধর করা হয়েছে”।

এই ভিডিওটি টুইটারে পোস্ট করেন অন্য এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক এন থিয়াগরাজন। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন প্রভাকরণ।

সূত্রের খবর, পুলিশকে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হলেও তামিলনাড়ুর কান্ধাভাসাল এলাকার পুলিশ জানায়, আসলে যা ঘটেছে তার চেয়ে বাড়িয়ে বলছেন প্রভাকরণ। শোনা যাচ্ছে, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রভাকরণের স্ত্রী ও তাঁর মা বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন। আদতে কোনওরকম মারধোর করাই হয়নি সেই মহিলাকে, এমনটাই দাবী পুলিশের।

অন্যদিকে, এই ঘটনা সামনে আসার পরই ভারতীয় সেনার নর্দার্ন কমান্ডের তরফে জানানো হয়, এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্যদের গ্রেফতার করার জন্য তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যেসমস্ত সেনারা পরিবার থেকে দূরে ফিল্ডে পোস্টিং রয়েছেন, তাদের পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্তব্য। এই ঘটনায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় স্থানীয় সেনা কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছে সেনা কর্তৃপক্ষ, এমনটাই জানা গিয়েছে।

RELATED Articles