বিদ্যুৎ ঘাটতির জেরে অন্ধকারে ডুবতে পারে দেশ, বাতিল হওয়ার আশঙ্কা একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেন, দুর্ভোগের মুখে নিত্যযাত্রীরা

গরমের তীব্র দাবদাহে পুড়ছে গোটা দেশ। আর এরই মধ্যে দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ ঘাটতি। দিল্লির বিদ্যুৎমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন জানিয়েছেন যে আর একদিনের মতো কয়লা মজুত রয়েছে। এরপর আর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে না দিল্লিতে।

এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় রেলের তরফে জানানো হয়েছে যে কয়লা পরিবহণের জন্য বাতিল করা হচ্ছে বেশ কিছু প্যাসেঞ্জার ট্রেন। এই ট্রেন কতদিন বাতিল থাকবে, তা এখনই জানাতে পারছে না ভারতীয় রেল। এর জেরে গরমের মধ্যে নিত্যযাত্রীদের আরও দুর্ভোগ বাড়বে।

শুধুমাত্র দিল্লিই নয়, দেশের নানা প্রান্তেই ফুরিয়ে আসছে কয়লা। আর এই কারণেই রেলের তরফে জানানো হয়েছে যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লা পাঠানো হবে। দেশের নানান প্রান্তে ৪২টি প্যাসেঞ্জার ট্রেন ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে। পণ্যবাহী ট্রেনগুলির গতি বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানা গিয়েছে।

ইন্ডিয়ান রেলওয়েজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর গৌরব কৃষ্ণ বনসল জানান,“এখনই বলা যাচ্ছে না কতদিন ট্রেন বন্ধ থাকবে।পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আবার চালু হয়ে যাবে ট্রেন পরিষেবা”। কিন্তু কতদিনে কয়লা পাঠানো শেষ হবে, তা নিয়ে তিনি সঠিকভাবে কিছুই বলতে পারেন নি।

ভারতের মোট বিদ্যুতের ৭০ শতাংশই তৈরি হয় কয়লা থেকে। কয়লা পরিবহণ নিয়ে এর আগেও ভারতীয় রেলের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। খনি থেকে সঠিক সময়ে কয়লা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছয় না। আর এর ফলেই চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের যোগান দেওয়া যায় না। সত্যেন্দ্র জৈনের কথায়, রেলওয়ে রেলের সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এর আগে ছত্তিশগড়ে তিনটি প্যাসেঞ্জার ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় সাংসদদের বিক্ষোভে ফের চালু হয় ওই তিনটি ট্রেন ভারতীয় রেলের এক অধিকর্তা জানান, অনেক জায়গাতেই বিক্ষোভ হচ্ছে। কিন্তু আমরা নিরুপায়। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে কয়লা থাকে, সেটাই আপাতত নিশ্চিত করতে হবে আমাদের”।

RELATED Articles