পশ্চিম এশিয়ার আকাশে যখন যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে উঠছে, তখন হাজার হাজার ভারতীয়ের মনে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। কেউ পড়াশোনা করছেন বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেউ আবার চাকরির সূত্রে বহুদিন ধরেই ওই অঞ্চলে বসবাস করছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতি হঠাৎ করেই তাদের জীবনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। পরিবার থেকে হাজার মাইল দূরে থাকা এই মানুষগুলোর একটাই প্রশ্ন—এই বিপদের সময়ে তারা কীভাবে নিরাপদে দেশে ফিরবেন?
ইরানসহ পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে এখনও বহু ভারতীয় পড়ুয়া এবং কর্মী আটকে রয়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তাদের অনেকেই সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যাতে দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়াতেও অনেকের উদ্বেগ প্রকাশ্যে এসেছে। তবে পরিস্থিতি যে একেবারেই অচল নয়, তা বোঝাতে সংসদে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এস জয়শঙ্কর জানান, ইরানসহ সংঘাতপ্রবণ অঞ্চল থেকে ভারতীয়দের নিরাপদে ফেরানোর জন্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৭ হাজার ভারতীয় পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, এখনও যারা সেখানে আটকে আছেন তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সব ধরনের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিচ্ছে।
তবে এই প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও। তাঁর কথায়, ইরানে বসবাসরত ভারতীয়দের আগে থেকেই একাধিকবার দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই সেই সতর্কবার্তা গুরুত্ব দেননি। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর তারা বিপাকে পড়েছেন। একই সঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট মেটানোই সবচেয়ে জরুরি।
আরও পড়ুনঃ Gyanesh Kumar : কালীঘাটে পুজো দিতে গিয়েই ‘গো ব্যাক’ ধ্বনি! মন্দিরের বাইরে কালো পতাকা, ভেতরে প্রার্থনা—ভোটের আগে বাংলায় জ্ঞানেশ কুমারের সফর ঘিরে কি বড় রাজনৈতিক ঝড়ের ইঙ্গিত?
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান পাল্টা পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর ফলে একাধিক দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ফলে বহু ভারতীয় বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকে পড়েন—এর মধ্যে ছিলেন ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধুও, যিনি দুবাই বিমানবন্দরে আটকে পড়ায় অল ইংল্যান্ড ওপেনে অংশ নিতে পারেননি। যদিও এখন ধীরে ধীরে আকাশসীমা আংশিকভাবে খুলছে, তবুও বিমান পরিষেবা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আটকে পড়া ভারতীয়দের সাহায্যের জন্য বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করেছে।





