লোকসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বাংলার রাজনৈতিক আবহাওয়ায় নতুন নতুন উত্তাপ তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনিক প্রস্তুতি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ—সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন নির্বাচন প্রক্রিয়া। সেই প্রেক্ষাপটেই রাজ্যে পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার সকালেই শহরের এক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে উপস্থিত হন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তবে তাঁর এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বাইরে তৈরি হয় অন্য এক পরিস্থিতি।
রবিবার রাতেই রাজ্যে পৌঁছয় নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিদল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ মোট ১২ জন সদস্য এই সফরে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। শহরে পা রাখার পর থেকেই এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত মিলতে শুরু করে। ভিআইপি রোড দিয়ে যাওয়ার সময়ই কিছু বাম সমর্থক কালো পতাকা দেখিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তোলেন বলে জানা যায়। যদিও কমিশনের সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা।
সোমবার সকালে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কালীঘাট মন্দিরে যান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। আগেই জানা গিয়েছিল যে বৈঠকের আগে তিনি মন্দিরে পুজো দেবেন। সেই কারণে সকাল থেকেই কালীঘাট মন্দির চত্বর জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশের নজরদারিতে মন্দির এলাকা কার্যত নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা ছিল। পুজো সেরে মন্দির থেকে বেরিয়ে জ্ঞানেশ কুমার হাসিমুখেই সকলকে নমস্কার জানান। তিনি বলেন, “প্রত্যেক ভাই-বোনকে আমার নমস্কার। মা কালী সবাইকে যেন ভাল রাখেন।” তবে বাইরে তখন অন্য দৃশ্য—মন্দির সংলগ্ন এলাকায় হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কিছু মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
কালীঘাট মন্দিরের আশপাশ এবং হাজরা এলাকায় বিক্ষোভের ছবি সামনে আসে। সেখানে কিছু মানুষ কালো পতাকা দেখিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তোলেন। যদিও বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী নন, সাধারণ নাগরিক হিসেবেই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ পড়ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। তবে বিক্ষোভের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। পুজো শেষে তিনি দ্রুত নিউটাউনের একটি হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
আরও পড়ুনঃ “দিদি আমাদের সেরা, আপনার এনার্জির সিক্রেটটা কী?” শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় জানতে চাইতেই, মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোজাসাপ্টা জবাব! কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
এদিকে রাজ্যে থাকাকালীন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সূচি রয়েছে। সোমবার সকাল দশটায় নোডাল অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। এরপর দুপুরে ভোটের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবে কমিশন। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে থাকার কথা রয়েছে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারের। এছাড়াও জ্ঞানেশ কুমারের বেলুড় মঠ সফরের কথাও জানা গেছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশনের এই সফর ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।





