একটি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী তার কিনা শিক্ষাগত যোগ্যতা ক্লাস টেন পর্যন্ত। এমনই টিটকিরি শুনতে হতো ঝাড়খন্ডের শিক্ষামন্ত্রী জগরনাথ মাহাতোকে। শিক্ষাগত যোগ্যতা এত কম থাকা সত্ত্বেও কি করে তিনি রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী হলেন সেই প্রসঙ্গ অন্য, তবে লাগাতার টিটকিরি তে একটা অন্য লাভ হয়েছে এতদিনে নতুন করে একাদশ শ্রেণিতে অ্যাডমিশন নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, শেখার কোন বয়স হয়না।
নিজে ক্লাস টেনের বিদ্যা নিয়ে কি করে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর সামলাবেন সে প্রশ্নের মুখে তাকে বারবারই পড়তে হয়েছে নানা সময়। সেই কারণে ঝাড়খন্ড রাজ্যে শিক্ষার উন্নতির জন্য রাজ্যজুড়ে নতুন মডেল স্কুল খুলছে সরকার। সোমবার সেই বিষয়ে সাংবাদিকদের সামনে ঘোষণা করতে আসেন জগরনাথ মাহাতো। তখনই সকলকে চমকে দিয়ে ঘোষণা করেন তিনি আবার স্কুলে ভর্তি হতে চলেছেন।
সূত্র অনুযায়ী খবর ৫৩ বছরের এই মন্ত্রী তার নিজেরই বিধানসভা অঞ্চলের বোকারো জেলার দুমরি এলাকার না বাটি হাতে একটি সরকারি ইন্টার কলেজ দেবী মাহাতো মহাবিদ্যালয় আর্টস নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি হওয়ার পর তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেছেন, এবার তিনি মন দিয়ে পড়াশোনা করবেন সেই সঙ্গে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকেও আরও মজবুত করার চেষ্টা করবেন।
জগন্নাথ মাহাতো হাজার ১৯৯৫ সালের চন্দ্রপুর আর নেহেরু স্কুল থেকে সেকেন্ড ডিভিশনে মাধ্যমিক পাস করেছিলেন। তারপর আর লেখাপড়া করা হয়ে ওঠেনি তাঁর। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এতদিন পর কেন এই সিদ্ধান্ত? যার উত্তরে জগরনাথ বলেন, “আমি যেদিন শিক্ষামন্ত্রী পদে শপথ নিয়ে অনেকেই তখন বলেছিলেন একজন ক্লাস ১০ পাশ মানুষ আর রাজ্যের শিক্ষার অগ্রগতি নিয়ে কি কাজ করবেন। সেই সমস্ত মানুষদের জবাব দেওয়ার জন্যই আমি ফের ভর্তি হয়েছি পড়াশোনা করতে পড়াশোনার কোনও বয়স হয় না। আমি ভালো রেজাল্ট করে দেখিয়ে দেব”।
তবে পড়াশোনার পাশাপাশি চাষাবাদও করবেন বলে জানিয়েছেন জগরনাথ। সেইসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামাল দেবেন এবং তার পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করবেন। সেইসমস্ত সাধারন মানুষ যাদের লেখাপড়া করার ইচ্ছা আছে কিন্তু অতীতে কোনো কারণে করা হয়ে ওঠেনি ঝাড়খণ্ডের শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ মাহাতো কে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সেই চেষ্টা আবার করে দেখতেই পারেন।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন : অন্তরা ঘোষ





