রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে চলেছে প্রায় দেড় হাজারের কাছে। মৃত্যু সংখ্যা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জন। এই অবস্থায় রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন বিরোধীরা, এবার তারই প্রতিফলন ঘটল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র একটি খোলা চিঠিতে। সেখানে তিনি বিশদে লিখেছেন করোনা নিয়ে রাজ্য সরকারের খামতি কোথায় এবং তাঁর প্রতিটা লেখা চিঠির প্রতিটি অনুচ্ছেদে তিনি প্রমাণ উপস্থাপনা করেছেন। এই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। বিজেপির এই ধাক্কায় রীতিমত ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

কী বিস্ফোরক তথ্য লেখা আছে এই চিঠিতে?
চিঠির প্রথমেই স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্ব-এ থাকা মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা এই অবস্থায় সঠিক নয় সেই নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন কৈলাস। তারপর কেন্দ্রীয় পরিদর্শন দল যেভাবে বিশদে বিশ্লেষণ করে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি কেন্দ্রকে জানিয়েছে সেখানে রাজ্য দেড়মাস ধরে একটা বুলেটিন দায়সারাভাবে প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন কৈলাস।
রাজ্যে কতজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন তার কোনো সঠিক তথ্য রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত দিতে পারেনি। কখনও বলছেন, এতজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন, কিন্তু বাকিরা মারা যাওয়ার পর তাদের করোনা ধরা পড়েছে তাই তাদের করোনায় মৃত বলা যাবে না। কিন্তু গতকাল করোনায় মৃতের সংখ্যা ছিল ৬১, আজকে সেটা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৩। এহেন বিভ্রান্তিকর তথ্যে মানুষ বিরক্ত ও ভীত।

রাজ্যে কতজন করোনা পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, কতজনকে করোনায় মারা যাওয়ার পর সৎকার বা সমাধিস্থ করা হয়েছে তাও জানানো হয়নি। আলিপুরদুয়ার জেলাকে গ্রীন জোন হিসাবে ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার এদিকে ইতিমধ্যেই সেখানে চারজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এমনকি তিস্তা নদীর ধারে দেহ সৎকার হচ্ছে বলেও সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাহলে রাজ্য সরকার কী তথ্য গোপন করতে চাইছে, প্রশ্ন তুলেছেন কৈলাস।
রাজ্য সরকারের বুলেটিন বলছে, পশ্চিম বর্ধমান করোনা শূন্য কিন্তু গত ২১শে এপ্রিলে মুখ্যসচিব সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, সেখানে একজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। কালিম্পং জেলায় দেখানো হল সেখানে সর্বশেষ করোনা আক্রান্তের হদিশ পাওয়া গিয়েছে ২রা মে। ৪ঠা মে-র বুলেটিনে আবার বলা হল, কালিম্পং জেলা করোনা শূন্য। তাহলে দুদিন আগের হদিশ পাওয়া করোনা আক্রান্তের কী হল? আবার কালিম্পং জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু সংখ্যা দেখানো হয়েছে ১ জন যা একমাসেরও আগের ঘটনা, উত্তরবঙ্গে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যু। তাহলে ২রা মে হদিশ পাওয়া করোনা আক্রান্ত কোথায় গেলেন?

এছাড়া উত্তর দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদে আক্রান্তের সংখ্যা এত কম রাজ্য সরকার দেখাচ্ছে কিন্তু সূত্রানুসারে জানা গিয়েছে, সেখানে প্রায় ৪০০-এরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন কারণ দুই জেলার অনেকেই দিল্লির তাবলীগ জামাতের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।
এছাড়াও রাজ্যে আইসোলেশন বেড নিয়েও সরকারকে তোপ দেগেছেন কৈলাস। মোট আক্রান্তের সংখ্যা আর আইসোলেশন বেডের সংখ্যার প্রভূত গরমিল রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন কৈলাস। এত বড় একটা ব্যাপার সরকার নিশ্চয়ই ক্যালাসলি নেবে না বলেই আশা প্রকাশ করেছেন কৈলাস। তিনি এইসকল ধোঁয়াশা দূর করে রাজ্যবাসীকে করোনা নিয়ে সঠিক তথ্য জানাবার অনুরোধ করেছেন।
যদিও এখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে এই চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর আসেনি। মুখ্যমন্ত্রী এই পত্রবোমার অভিযোগের কী উত্তর দেন তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।





