প্রয়াত হলেন এমডিএইচ-এর মশলা সংস্থার মালিক ধর্মপাল গুলাটি। আজ ভোর ৫.২১ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ধর্মপাল গুলাটি। আজ ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে থেমে যায় ‘দাদাজি’-এর জীবনচাকা।
ছোটবেলায় সেই বিজ্ঞাপনের কথা হয়ত আমাদের সকলের মনে আছে। সেই সুর, ‘আসলি মশালে সচ সচ’ আর সেই বিজ্ঞাপনের দাদাজির সরল মিষ্টি হাসি। সেই নস্টালজিয়াকে সঙ্গে নিয়েই পরলোকগমন করলেন এমডিএইচ-এর সেই দাদাজি ধর্মপাল গুলাটি। স্কুল গণ্ডিও পেরোনো হয়নি তাঁর। তবে তা সত্ত্বেও দেশের মশলা সম্রাট হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এফএমসিজি সেক্টরে সবথেকে বেশি বেতনভুক সিইও ছিলেন পদ্মভূষিত ধর্মপাল গুলাটি।
১৯১৩ সালে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ক্লাস ফাইভেই স্কুলের পঠনপাঠন ছেড়ে দেন ধর্মপাল। এই সময় পড়াশোনা ছেড়ে বাবাকে মশলার ব্যবসায় সাহায্য করতে শুরু করেন তিনি। মশলা প্রস্তুতকারক সংস্থা এমডিএইচ-এর প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর বাবা। বাবার সেই ব্যবসাকেই আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যান দাদাজি।
দিল্লির কারোল বাঘ ও চাঁদনী চকে দুটি ছোটো দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন ধর্মপাল। ধীরে ধীরে এমডিএইচ মশলাকে একশোর বেশি দেশে পৌঁছে দিয়েছিলেন ধর্মপাল গুলাটি। ভারতের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি দুবাইতেও ছিল তাঁর সংস্থার অফিস। বর্তমানে প্রত্যেকদিন ৩০ টন মশলা প্রস্তুত করে এই সংস্থা।
২০১৭ সালে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক ছিল ধর্মপাল গুলাটির। জানা গিয়েছে, নিজের পারিশ্রমিকের প্রায় ৯০ শতাংশই তিনি মানুষের সেবায় বিনিয়োগ করতেন। দিল্লি এনসিআরে এই এমডিএইচ সংস্থার সাহায্যে একাধিক হাসপাতাল ও স্কুল চলে। এই খাতেই নিজের উপার্জিত অর্থ দান করতেন মশলা সম্রাট ধর্মপাল গুলাটি। তাঁর প্রয়ানে শোকজ্ঞাপন করেছেন দেশের নাগরিকেরা।





