দেশের ইতিহাসে এমন অনেক দুঃখজনক ঘটনা এসেছে, যেখানে নিরীহ মানুষদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে সন্ত্রাসী হামলা। কিন্তু কখনো কখনো সেই হামলা দেশের একতার শক্তিকে আরও দৃঢ় করে তোলে। পহেলগাঁওয়ের ২২ এপ্রিলের ভয়াবহ হামলা তারই একটি উদাহরণ। এই হামলার পর এক দেশবাসীর মন ভেঙে গিয়েছে, কিন্তু এর সাথেই এসেছে শক্তিশালী বার্তা, যে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কখনোই ভারতকে থামাতে পারবে না। কিন্তু কীভাবে এর প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া হয়েছে? চলুন, আরও বিস্তারিত জানি।
এই হামলার পেছনে যে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, সে ব্যাপারে কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে তিনি শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগের কথাই বলেননি, বরং দেশে শান্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা এই হামলাকে সন্ত্রাসবাদীদের শেষ চেষ্টা হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন। তবে, এগুলোর মধ্যে ছিল গভীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, যে দৃষ্টিভঙ্গি গুলো জাতির একতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
পহেলগাঁওয়ের হামলায় নিহত ২৬ পর্যটকের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি এ দিন মন কি বাত অনুষ্ঠানে এসে বলেন, “আমার হৃদয়ে গভীর যন্ত্রণা রয়েছে। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলায় প্রত্যেক দেশবাসীর মন ভেঙে গিয়েছে। প্রত্য়েক ভারতীয়ের গভীর সহানুভূতি রয়েছে নিহতদের পরিবারের প্রতি।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে একতার শক্তি অপরিহার্য, এবং এটিই আমাদের জয়ী হওয়ার মূলমন্ত্র।
এদিন মোদী আরও বলেন, “জম্মু-কাশ্মীরের শত্রুদের এটা ভাল লাগেনি যে সেখানে শান্তি ফিরছিল, গণতন্ত্র শক্তিশালী হচ্ছিল এবং রেকর্ড হারে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ছিল। সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছিল, যুব সমাজের জন্য কাজের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছিল।” তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সন্ত্রাসীরা ভয় পেয়েছে যখন তারা দেখেছে যে কাশ্মীরের পরিস্থিতি বদলাচ্ছে।
দেশবাসীকে বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে দেশের একতা, ১৪০ কোটি মানুষের একে অপরের পাশে থাকাই সবথেকে বড় শক্তি। একতাই আমাদের শক্তি। দেশের সামনে থাকা এই চ্যালেঞ্জকে প্রতিহত করতে আমাদের সংকল্প মজবুত করতেই হবে। দেশ হিসেবে আমাদের শক্তি দেখাতে হবে। আজ গোটা বিশ্ব দেখছে…” এই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে জানিয়ে দেন যে দেশের অঙ্গীকার কোনোভাবেই পরিবর্তিত হবে না এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ জন্মদিনের দু’দিন আগেই শেষ নিঃশ্বাস! কীভাবে মৃত্যু হলো জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের?
অবশেষে, পহেলগাঁও হামলার পর রাষ্ট্রনেতাদের কাছ থেকে ফোন পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে ১৪০ কোটি ভারতীয়ের পাশে গোটা বিশ্ব রয়েছে। আমি আবারও নিহতদের পরিবারকে আশ্বাস দিচ্ছি যে আপনারা ন্যায় বিচার পাবেই।”





