‘অপারেশন মুসকান কোভিড-১৯’ এই বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে অন্ধ্রপ্রদেশের পুলিশ। সারা বিশ্বে এখন করোনার প্রকোপ বাড়ছে। এই সময় অনাথ ও পথশিশুদের পাশে এসে দাঁড়াল অন্ধ্র প্রদেশ পুলিশ। তাদের মধ্যে মারণ করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে কিনা তা জানার জন্যই এই নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশপ্রশাসন।
শুধু সংক্রমনের খোঁজই নয়, এই বিশেষ অভিযান এক মাকে তাঁর ছেলের খোঁজও এনে দিল। ‘অপারেশন মুসকান কোভিড-১৯’ এ চার বছর আগে হারিয়ে যাওয়া নিজের ছেলের খোঁজ পেলেন এক মহিলা। শুধু তাই নয়, চুক্তির ভিত্তিতে শিশুশ্রমিক হিসেবে কর্মরত বিহারের ১০জন শিশুকেও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এখনও অবধি, ‘মুসকান কোভিড-১৯’ এর মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টায় ২,৭৩৯জন শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আগামী সোমবার অবধি এই কর্মকান্ড জারি থাকবে।
আজ থেকে চার বছর আগে অর্থাৎ ২০১৬ সালে পশ্চিম গোদাবরী জেলার পালাকোল্লুতে নিজের বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় শ্রীনিবাস। বয়স অনেক কম প্রায় শিশুই বলা চলে। বাড়ি থেকে পালিয়ে সে পৌঁছে যায় বিজয়ওয়াড়া স্টেশনে। সেসময় সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে একটি হোমে রাখা হয়। এদিকে সংসারে তার মা একা। বাবা কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন। অর্থকষ্টের মধ্যে দিয়ে নিজের সংসারকে কোনোরকমে টেনে নিয়ে চলছেন তার মা শ্রী ললিতা। অন্যদিকে বাড়ি থেকে পালিয়ে হোমে অনাথের পরিচয় বড়ো হয়ে উঠতে থাকে শিশুটি। ‘অপারেশন মুসকান কোভিড-১৯’ এর সময় পুলিশ তার করোনা পরীক্ষা করতে এলে সে নিজের বাড়ির পরিচয় দেয়। এরপরেই তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেন পুলিশকর্মীরা।
ডিজিপি গৌতম সাওয়াঙ্গ আনন্দের সঙ্গে জানান, ‘একজন শিশুকে চার বছর পর আবার তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা খুবই খুশি। এমন কাজ করেও আমরা অত্যন্ত আনন্দ ও পরিতৃপ্তি অনুভব করি। এই শিশুটি নিজের মুখে তার বাড়ির কথা জানিয়েছে বলে তাকে বাড়ি ফেরানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি শিশুর জীবনেই এমন অনেক কাহিনী রয়েছে যা হয়তো আমরা জানতে পারি না।’





