বিজ্ঞাপনী ব্যাখ্যাতেও ভিজল না চিঁড়ে, সিইএসসিকে কড়া নোটিশ ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের

করোনার পরে এখন শহরে সব থেকে বেশি চর্চিত বিষয় হল সিইএসসি এবং তাদের অস্বাভাবিক হারে বিলের বৃদ্ধি। জনগণের ক্ষোভ নিবারণের জন্য সরকার সিইএসসিকে নির্দেশ দিয়েছিল মানুষের কাছে এই অস্বাভাবিক বিলের কারণ ব্যাখ্যা করার। কিন্তু সরকারের নির্দেশে বিজ্ঞাপন দেওয়া হলেও তাতে ব্যাখ্যার লেশ মাত্র রাখেনি সিইএসসি। এই বিজ্ঞাপন দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, এই বিল সমস্যার সমাধান তিনি করেই দম নেবেন।

লকডাউনের পর থেকেই জনগণের গলায় রীতিমত কোপ মারছে সিইএসসি। বিদ্যুতের বিলে পরিমাণ মতো জল মিশিয়ে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে কলকাতার এই নামজাদা বিদ্যুৎ সংস্থা। এই ঘটনার চলতে সাধারণ মানুষ নানা জায়গায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। তাই দ্রুত এই পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত শুক্রবার বিদ্যুৎমন্ত্রী সিইএসসি কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, শনিবারের মধ্যে শহরের বহুল প্রচলিত দৈনিক সংবাদপত্রগুলিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে, মানুষের সামনে এই অস্বাভাবিক হারে বিল নেওয়ার যথাযথ কারণ ব্যাখ্যা করতে।

বিদ্যুৎমন্ত্রীর কথামতো কাগজে কাগজে বিজ্ঞাপন ছাপা হল ঠিকই কিন্তু তাতে উপযুক্ত ব্যাখ্যা মিলল না। এমনকি কোন স্ল্যাবে বিল নেওয়া হচ্ছে, তারও কোনো উল্লেখ নেই। কেবল নিজেদের কথা জানিয়েছে সিইএসসি। যে কারণে এই বিজ্ঞাপন দেওয়া তা তো মিটলোই না উপরন্তু গ্রাহকদের ক্ষোভ আরও বেড়ে গেল। এমনকি এই ঘটনায় ক্ষোভপ্রকাশ করে বিদ্যুৎমন্ত্রীও জানিয়েছেন, ‘বেশি বিলের যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল সেটা কোথায়? তা তো কোথাও লেখা হয়নি।’ অন্যদিকে ‘আমরা গ্রাহকদের প্রতি দায়বদ্ধ’ সিইএসসি তাদের এই স্বান্ত্বনা বাক্য বলেই নিজেদের দোষ ঝেড়ে ফেলেছে।

সিইএসসির এই দৌরাত্ম থামাতে এবার ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের তরফে সোমবার সিইএসসিকে নোটিশ ধরানো হবে। দফতরের মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের দাবি, ‘লকডাউনের চলতে ঠিকমতো মিটার রিডিং নেয়নি সিইএসসি। বরং যে বিল আসে, তাকেই দু’তিন গুণ বাড়িয়ে বিল পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর তার জেরে সমস্যায় পড়েছেন গ্রাহকরা।’

পাশাপাশি সোমবার সিইএসসির-র ভিক্টোরিয়া হাউসের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাবে বলে জানিয়েছে রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সংগঠন অ্যাবেকা।

RELATED Articles

Leave a Comment