এক অচেনা নীরবতার মধ্যে হঠাৎই নেমে এল প্রবল চাঞ্চল্য। যে পরিবারটিকে প্রতিবেশীরা শান্ত, সাধারণ বলে জানতেন, তাদের জীবনে ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা কারোর কল্পনাতেও ছিল না। এক মায়ের দীর্ঘদিনের হতাশা শেষমেশ কোন দিকে গড়াল, সেটাই এখন আলোচনার কেন্দ্র।
পরিবারের বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে জমে ছিল অস্থিরতা। একমাত্র ছেলে দক্ষ ছোট থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিল। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অসুখ পরিবারের শান্তি কেড়ে নেয়। ছেলের কষ্ট দেখে মা সাক্ষী চাওলার মন ক্রমশ ভেঙে যাচ্ছিল। ধীরে ধীরে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন।
এক সন্ধ্যায় হঠাৎ চিৎকার শুনে ছুটে আসেন স্বামী দার্পণ চাওলা। তিনি পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। ঘরে ঢুকে না দেখে, ব্যালকনিতে গিয়ে যে দৃশ্য তিনি দেখেন, তা আজও কাউকে শিহরিত করে। মাটিতে নিথর পড়ে আছেন স্ত্রী ও সন্তান। পুলিশ এসে দ্রুত দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় একটি সুইসাইড নোট। সেখানে সাক্ষী স্বামীর উদ্দেশ্যে লিখে যান— “আমরা এই পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছি, দুঃখিত। আমরা আর তোমার বোঝা হতে চাই না। আমাদের জন্য তোমার জীবন নষ্ট হোক, তা চাই না। আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।” এই চিঠি থেকেই পরিষ্কার হয়, দীর্ঘ মানসিক যন্ত্রণা এবং অবসাদের চাপই সাক্ষীকে শেষ পদক্ষেপে ঠেলে দিয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ Jadavpur University : ‘মেয়ে কোনওভাবেই অন্ধকারে একা যেত না, ওঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে’ — যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী মৃ*ত্যুর ঘটনায় বাবার অভিযোগ!
প্রতিবেশীরা বলেছেন, পরিবারটি খুবই শান্ত ও সাধারণ ছিল। কিন্তু ভেতরে চলা যন্ত্রণা কেউ আঁচ করতে পারেননি। এই ঘটনাই মনে করিয়ে দেয় মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা। কারোর মধ্যে অস্বাভাবিক হতাশা বা নীরব কষ্ট চোখে পড়লে অবিলম্বে তার পাশে দাঁড়ানো জরুরি। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে গ্রেটার নয়ডার ‘এইস সিটি’ আবাসনে, যেখানে এখনো শোকের ছায়া ঘিরে রেখেছে গোটা মহল্লা।





