যুবতীর অকালমৃত্যু সবসময়ই সমাজে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। হঠাৎ করেই কোনও তরতাজা প্রাণ চলে যাওয়া সহজে মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে যখন ঘটনাস্থল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে, তখন প্রশ্ন আরও জটিল হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। মৃতার পরিবার একে নিছক দুর্ঘটনা মানতে নারাজ, তাঁদের দাবি এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে অস্বাভাবিক কিছু রহস্য।
বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কি লটে ড্রামা ক্লাবের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন অনামিকা মণ্ডল। নিমতার বাসিন্দা, যাদবপুরের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎই তিনি শৌচালয়ে যাওয়ার কথা বলে ৪ নম্বর গেট সংলগ্ন ঝিলপাড়ের দিকে রওনা দেন। এরপর আর তাঁকে ফেরেনি কেউ। ক্ষণিকের মধ্যেই অন্য ছাত্রছাত্রীরা ঝিলের জলে ভেসে থাকতে দেখেন তাঁর দেহ।
তড়িঘড়ি তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা জানান, ইতিমধ্যেই অনামিকা মারা গেছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। প্রশ্ন উঠতে থাকে, একা কেন তিনি অন্ধকারে ঝিলের ধার ঘেঁষে গেলেন? মেয়ে যে সাঁতার জানতেন না, তা স্পষ্ট জানিয়েছে পরিবার। ফলে বিষয়টি ঘিরে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়।
পরের দিন প্রকাশ্যে আসে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মৃত্যুর কারণ জলেই ডুবে যাওয়া। যদিও রিপোর্ট সামনে আসার পরও পরিবারের সন্দেহ একটুও কমেনি। তাঁদের দাবি, মেয়ে স্বেচ্ছায় ঝাঁপ দেননি। বরং তাঁকে কেউ জোর করে ঠেলে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Job Crisis: উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলায় এসেছেন দীনেশ, চাকরির অভাবে ক্ষুব্ধ শিক্ষিত যুবক!
রবিবার এক সাক্ষাৎকারে নিহতের বাবা অর্ণব মণ্ডল বলেন, ‘‘ওঁকে নিশ্চয়ই কেউ ডেকেছিল। তারপর ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে। আমার মেয়ে কোনওভাবেই অন্ধকারে একা ঝিলপাড়ে যেত না। ও ভীষণ ভয় পেত।’’ বাবার বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভবত কোনও প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতেই মেয়ে এই পরিণতির শিকার হয়েছে। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি খুন।





