বিপাকে বাণিজ্য নগরী! রেকর্ড বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে মুম্বাই

ক্রমাগত বৃষ্টিতে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বাণিজ্য নগরীতে। রীতিমতো জলের তলায় মুম্বাই।‌বৃহস্পতিবার সকালেও ভারী বৃষ্টি চলেছে বিভিন্ন জায়গায়। পেড্ডার এলাকায় নেমেছে ধ্বস। সকাল থেকেই সেখানে যানবাহন চলাচল বন্ধ ফলে প্রবল অসুবিধায় পড়েছেন মানুষজন।

তবে শুধু মহারাষ্ট্র নয়, কর্নাটকের একটি বড় অংশও বানভাসি। তবে আবহাওয়া দপ্তর শোনাচ্ছে আর বিপদের আশঙ্কা। জানানো হচ্ছে যে মুম্বাইতে আরো বৃষ্টিপাত হবে। প্রতিবছরই বর্ষাকালে মুম্বাইয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে এ বছর বিপদ আরো বেশি কারণ দেশে এখন কঠিন করো না পরিস্থিতি চলছে।
বর্তমানে মুম্বাইয়ে বৃষ্টি তো হচ্ছে সেই সঙ্গে রয়েছে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া। বুধবার সন্ধ্যায় এক সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০৭ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যায় শহরের উপর দিয়ে।

মুম্বই-নাসিক হাইওয়েতেও যানচলাচল প্রবল ভাবে বিপর্যস্ত। কল্যাণ ভিওয়ান্ডি বাইপাস, মুম্বরা বাইপাস থেকে থানে পর্যন্ত যানচলাচলের গতি‌ কমে গিয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় গাছ পড়ে বন্ধ হয়েছে যান চলাচল। সিওনের গান্ধী মার্কেট এলাকা, মুম্বই সেন্ট্রাল, গোল দেভাল, সন্ত রোহিদাস চক-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ট্র্যাফিক ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার সকাল ৮.৩০টা পর্যন্ত কোলাবায় বৃষ্টির পরিমাণ ৩৩১.৮ মিলিমিটার। যা ১৯৭৪ সালের পর আবার হল। সান্তাক্রুজ এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১৪৬.১১ মিলিমিটার। একাধিক এলাকায় জল জমে এবং গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। সরকারি জেজে হাসপাতালেও জল ঢুকে গিয়েছে।একমাসে যে পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার কথা, আগস্টের পাঁচ দিনের মধ্যেই তার ৬৪ শতাংশ বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে মুম্বইয়ে।

জরুরি কাজ ছাড়া মানুষজনকে বাড়ি থেকে বেরোতে বারণ করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।
অন্যদিকে কর্নাটকে বন্যা এড়াতে উত্তর কানাড়ায় বিশাল বাঁধের লকগেট খুলে জল ছাড়া শুরু করেছে সরকার। অন্যান্য বাঁধের জলও ছাড়া হচ্ছে। বিভিন্ন নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএস ইয়েদুরাপ্পা হাসপাতাল থেকেই বন্যাত্রাণে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন।

RELATED Articles

Leave a Comment