গান্ধী জয়ন্তীতে এবার জল নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবার ‘জল জীবন মিশন মোবাইল অ্যাপ’-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন এই অ্যাপের উদ্বোধনের পাশাপাশি দেশের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত ও পানি সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন মোদী। জল জীবন মিশন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই মূলত এই অ্যাপ আনা হয়েছে।
এদিন এরই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় জল জীবন কোষও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে জল জীবন মিশন উদ্যোগের কথা সামনে আনেম মোদী। গত দু’বছরে এই উদ্যোগের মাধ্যমেই প্রায় পাঁচ কোটি পরিবারের কাছে পৌঁছেছে জলের কল। কেন্দ্রের এই উদ্যোগের জেরেই ভারতের প্রত্যেকটি স্কুল, আশ্রম ও যে কোনও প্রতিষ্ঠানে জলের কল বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই কোষে অনুদান দিতে পারেন বলেও জানা গিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতিতেও গত ২ বছরে পাঁচ কোটিরও বেশি পরিবার জলের কলের পরিষেবা পেয়েছে। বর্তমানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৪৩ শতাংশ বাড়িতে রয়েছে জলের কল। প্রায় ৮ কোটি ২৬ লক্ষ বাড়িতে কলের জল সরবরাহ করা হয়।
এই বিবৃতি অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৭৮টি জেলার ৫৮ হাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের ১.১৬ লক্ষ গ্রামের প্রত্যেকটি বাড়িতে কলের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হয়। শুধু তাই নয়, ৭ লক্ষ ৭২ হাজার স্কুলে ও ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারেও জলের কলের ব্যবস্থা রয়েছে।
ভারতে পানীয় জল আজও বেশ বড় একটা সমস্যা। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে মানুষ এখন বেশ জলকষ্টে ভোগেন। এখনও অনেক মানুষকে পানীয় জলের জন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। দেশ যখন প্রযুক্তির দিক দিয়ে এতটা এগিয়েছে, তখন এই জলের সমস্যা সমাধান করতে কেন্দ্রের তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে দেশের নানান শহরগুলিকে এবার আবর্জনামুক্ত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই কারণে এবার তিনি সূচনা করলেন ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান ২.০’-এর। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার জন্যই এই স্বচ্ছ ভারত অভিযানের দ্বিতীয় পর্ব। গতকাল, শুক্রবার দিল্লির ড. আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার থেকে ‘অটল মিশন ফর রিজুভিনেশন অ্যান্ড আরবান ট্রান্সফরমেশন ২.০’ অভিযানের সূচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জঞ্জাল পরিষ্কার করে দেশের সমস্ত শহরগুলিকে আবর্জনামুক্ত করাই হল এই দুই অভিযানের লক্ষ্য।





