আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে কিন্তু তাও পথ আটকে আন্দোলন চলে কীভাবে? কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকদের প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের। গত ১০ মাস ধরে দিল্লির তিন সীমান্তে পথ অবরোধ করে কেন্দ্রের তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাচ্ছেন কৃষকরা। এই নিয়ে চলতি সপ্তাহেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল শীর্ষ আদালত।
কিন্তু এবার শুক্রবার ফের দিল্লির জন্তরমন্তরে এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের জন্য জয়পুরের কিসান মহাপঞ্চায়েতের তরফে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়। এরপরই বিচারপতি সিটি রবিকুমার ও বিচারপতি এএম খানউইলকরের বেঞ্চের তরফে জানানো হয় যে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষক সংগঠনের তরফে আদালতে যে পিটিশন জমা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে এই সংগঠনটিও রয়েছে।
এই কারণে আদালতের প্রশ্ন, শীর্ষ আদালত এই কৃষি আইনের উপর দেড় বছরের স্থগিতাদেশ জারি করার পরও দিল্লির প্রধান সড়কগুলি অবরোধ করে আন্দোলন চালাচ্ছেন কৃষকরা। এই বিষয়টি আদালতে পৌঁছনোর পরও কীভাবে কৃষকরা পথ আটকে আন্দোলন চালাতে পারেন?
এই বিষয়ে বিচারপতিদের বেঞ্চের তরফে বলা হয়, “বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রবেশদ্বারেই সড়ক অবরোধ করে গোটা শহরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন আপনারা শহরের ভিতরে এসেও আন্দোলন করতে চান। কৃষি আইন সংক্রান্ত বিষয়টি যখন শীর্ষ আদালতে বিরাধাহীন পর্যায়ে রয়েছে, সেই সময় আপনারা ফের পথ আটকে আন্দোলন করতে পারেন না। আপনারা কি বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন”?
শীর্ষ আদালত সাফ জানায় যে নাগরিকদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু কৃষকদের আন্দোলনের জেরে তাদের সেই অধিকার খর্ব হচ্ছে। কৃষকরা কী এ নিয়ে কোনও চিন্তাভাবনা করেছেন? কৃষকদের এমন অসহযোগিতার তীব্র সমালোচনা করা হয় আদালতের তরফে।
আদালতের কথায়, “আপনাদের আন্দোলনের জেরে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়ছেন, তাদের কাজে ক্ষতি হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের দাবী, আপনারা সেনাবাহিনীর গাড়িকেও আটকেছেন। আপনারা কখনও ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছেন, কখনও জাতীয় সড়ক অবরোধ করছেন। এরপরও আপনারা বলছেন যে এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ”।
জয়পুরের এই কিসান মহাপঞ্চায়েতকে আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা একটি হলফনামা দাখিল করে। এই হলফনামায় উল্লেখ করা থাকবে যে তারা দিল্লি, উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানার সড়ক অবরোধ করে যে আন্দোলন চলছে, তার অংশ নন।
বিচারপতিরা এও বলেন, “একই বিষয় নিয়ে চলা আন্দোলন থেকে আপনারা নিজেদের আলাদা বলে দাবি করতে পারেন না। সুপ্রিম কোর্টে একটি বিষয়ের নিষ্পত্তি চেয়ে আবেদন চেয়ে তারপরই সেই বিষয় নিয়ে আন্দোলন করতে পারেন না। যদি আপনাদের আন্দোলনই করতে হয়, তবে দয়া করে আদালতে আসবেন না”।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!