সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য বিশ্বকে একজোট হওয়ার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ‘নো মানি ফর টেরর’ কনফারেন্সে যোগ দিয়ে এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “সন্ত্রাসবাদকে গোড়া থেকে নির্মূল করতে আরও বড়, সক্রিয় ও সঠিক ব্যবস্থাপনা চাই। যদি আমরা নিজেদের নাগরিককে সুরক্ষিত দেখতে চাই, তবে সন্ত্রাসবাদ আমাদের দোরগোড়ায় পৌছনো অবধি অপেক্ষা করা যাবে না”।
নাম না করেই পাকিস্তানকেও কড়া বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বেশ কিছু দেশ সন্ত্রাসবাদকে মত দেওয়া নিজেদের বৈদেশিক নীতির অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। তারা আর্থিক ও রাজনৈতিক সমর্থন করেন সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিও যেন এটা মনে না করে যে যুদ্ধ হচ্ছে না, তার মানেই শান্তি বজায় রয়েছে। ছায়াযুদ্ধও অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও হিংস্র”।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলি সবথেকে বেশি চিন্তার হয়ে দাঁড়িয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল সন্ত্রাসবাদ। এই সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্যই এদিনের এই কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছিল। এই আলোচনা সভায় যোগ দেয় ৭২টি দেশ ও সন্ত্রাস দমনের সঙ্গে যুক্ত ১৫টি সংস্থা। এদিনের এই ‘নো মানি ফর টেরর’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে সমস্ত দেশ সন্ত্রাসবাদে মদত দিচ্ছে, তাদের মূল্য চোকাতে হবে। বেশ কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন সন্ত্রসবাদীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে, তাদেরও আলাদাভাবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন”।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “সন্ত্রাসবাদকে গোড়া থেকে নির্মূল করা প্রয়োজন। এর জন্য আরও বড় ও সক্রিয় প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন। যদি আমরা নিজেদের দেশের নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে চাই, তবে সন্ত্রাসবাদ আমাদের দোরগোড়ায় পৌঁছনো অবধি অপেক্ষা করতে পারব না সন্ত্রাসবাদীদের রুখতে হবে আমাদের, তাদের সমর্থনকারী নেটওয়ার্ককে ভাঙতে হবে এবং আর্থিক সাহায্য রুখতে হবে”।
এখানেই শেষ নয়, এদিন মোদীরাষ্ট্র সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ ও ছায়াযুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন। তাঁর কথায়, “বেশ কিছু দেশ সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়াকে তাদের বিদেশনীতির অন্তর্গত করে নিয়েছে। তারা সন্ত্রাসবাদীদের আদর্শগত, আর্থিক ও রাজনৈতিক সমর্থন জোগায়। এই সমস্ত দেশের কড়া মূল্য চোকানো উচিত”।
প্রধানমন্ত্রী সংযোজন, “বহু দশক ধরেই ভারত সন্ত্রাসবাদের সমস্যায় ভুক্তভোগী এবং তারা সাহসের সঙ্গে এই সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে লড়াই করেছে। একটা হামলাকেও আমরা অনেক বলে মনে করি। একজনের প্রাণহানিও আমাদের কাছে অনেক বেশি। যতদিন না সন্ত্রাসবাদকে আমরা গোড়া থেকে নির্মূল করছি, ততদিন আমরা ক্ষান্ত হব না। সমস্ত সন্ত্রাসবাদী হামলাকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ও তার কড়া জবাব দেওয়া উচিত। সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় অস্পষ্ট নীতি অনুসরণ করলে হবে না। সন্ত্রাসবাদ মানবতা, স্বাধীনতা ও সভ্য়তার উপরে হামলা”।





