বহু বছর ধরে বলিউডে কাজ করছেন শিল্পা শেট্টি। তার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালে ‘বাজিগর’ ছবির মাধ্যমে। এরপর ‘ফির মিলেঙ্গে’, ‘ধড়কন’ এবং আরও অনেক ছবিতে তিনি কাজ করেছেন, যা তাকে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী করে তুলেছে। সম্প্রতি, এক সাক্ষাৎকারে শিল্পা শেট্টি তাঁর জীবনের কিছু কঠিন মুহূর্তের কথা শেয়ার করেছেন, যেগুলো তার কাজের প্রতি আগ্রহ এবং সংকল্পের পরিচায়ক।
একসময় শিল্পা জানিয়েছিলেন, তিনি তাঁর নাকের আকার বদলিয়েছেন। এর পেছনে তিনি বলেছিলেন, “হ্যাঁ, আমি অস্ত্রোপচার করিয়েছি। তাতে কী হয়েছে?” এই পরিবর্তন তাকে আরও সুন্দর ও আত্মবিশ্বাসী করেছে, এমনটাই মনে করেন তিনি। তবে, শুটিংয়ের জন্য যে কষ্ট ও চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে, তাও তাঁর ক্যারিয়ারের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। তাঁর এই অবিচল মনোভাব এবং কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতি একেবারেই অদ্বিতীয়।
শিল্পা তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এমনকি, একটি ছবির শুটিংয়ের সময় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। একটি দৃশ্যের জন্য সেটে হাই ভোল্টেজ লাইট রাখা হয়েছিল, যার তীব্রতায় তার পিঠ পুড়ে যায়। পরদিন, একটি গানের দৃশ্যের জন্য তাকে পিঠে সেলাই করা জামা পরতে হয়েছিল। তবুও, কাজের প্রতি তার অঙ্গীকার নড়বড়ে হয়নি। যন্ত্রণার মধ্যে থেকেও তিনি শুটিং চালিয়ে গিয়েছিলেন।
এমন ঘটনা বলিউডের অন্যান্য অভিনেত্রীদের তুলনায় শিল্পাকে আরও দৃঢ় করেছে। একদিকে শুটিংয়ের দিক থেকে তার কঠোর পরিশ্রম, অন্যদিকে তার মনোভাবও বেশ শক্তিশালী। শিল্পা জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কখনোই তার কাজের জন্য অন্য কাউকে সমস্যায় ফেলতে চাননি। তার মতে, কাজের কোনো কারণে যদি প্রযোজকের আর্থিক ক্ষতি হয়, তা তিনি মেনে নিতে পারেন না। এমনকি, শুটিংয়ের মাঝে অসুস্থতার কারণে একবারও শুটিং বন্ধ করেননি।
এত বছর ধরে বলিউডে কাজ করেও শিল্পা শেট্টির মধ্যে যে পরিশ্রম ও দায়বদ্ধতার অনুভূতি রয়েছে, তা তাকে সফলতার শিখরে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। আজও তিনি তার কঠিন সময়গুলো মনে করেন এবং সেগুলোকেই তার সফলতার কাহিনীর অঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করেন। তার এই অবিচল মনোভাব নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।





