গ্ল্যামার দুনিয়ার মোহে পা বাড়ান অনেক তরুণ-তরুণী। কেউ হতে চান মডেল, কেউ বা স্বপ্ন দেখেন বড় পর্দায় নাম লেখানোর। সোশ্যাল মিডিয়া, বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থা বা কাস্টিং এজেন্সির মাধ্যমে তাঁদের কাছে পৌঁছায় নানা প্রস্তাব। তবে এই স্বপ্নের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক অন্ধকার জগৎ, যা অনেকেই আগে থেকে বুঝতে পারেন না। নয়ডার সাম্প্রতিক ঘটনায় ঠিক এমনই এক প্রতারণামূলক চক্রের খোঁজ মিলেছে, যেখানে অভিনয় কিংবা মডেলিংয়ের নাম করে যুবতীদের ফাঁসানো হতো, আর পর্দার আড়ালে চলত এক ভয়ংকর ব্যবসা।
শহরের অভিজাত এলাকায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, এই ফ্ল্যাটের অন্দরেই গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক এক পর্নোগ্রাফি চক্রের আস্তানা। সেখানে অত্যাধুনিক ক্যামেরা, লাইটিং সেটআপ, সবই রাখা ছিল এমনভাবে, যেন কোনও পেশাদার স্টুডিও। এখানে নিয়মিত শুটিং হতো, কিন্তু সেটি কোনও ফ্যাশন ফটোশুট বা সিনেমার দৃশ্যধারণ ছিল না। বরং বিশেষ এক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হতো আপত্তিকর ভিডিও, যার বিনিময়ে আসত কোটি কোটি টাকা। সম্প্রতি এই চক্রের পর্দাফাঁস করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
তদন্তকারীদের সূত্র অনুযায়ী, নয়ডার উজ্জ্বল কিশোর ও তাঁর স্ত্রী নীলু শ্রীবাস্তব বিগত পাঁচ বছর ধরে এই ব্যবসা চালাচ্ছিলেন। তাঁদের মূল কাজ ছিল অনলাইনে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি ও সেটি বিদেশি ওয়েবসাইটে আপলোড করা। জানা গেছে, সাইপ্রাসের এক জনপ্রিয় পর্ন সংস্থা তাঁদের নিয়মিত টাকা পাঠাত, যাতে তাঁরা আরও নতুন নতুন ভিডিও তৈরি করতে পারেন। বৈধতার ছদ্মাবরণ দিতে তাঁরা বিজ্ঞাপন ও মার্কেট রিসার্চের নামে অর্থ লেনদেন করতেন।
সম্প্রতি ইডির একটি বিশেষ অভিযানে তাঁদের বাড়ি থেকে ১৫.৬৬ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় চমক তখনই আসে, যখন আধিকারিকরা তাঁদের ফ্ল্যাটের এক ঘরে প্রবেশ করেন। দেখা যায়, সেখানে লাইভ ভিডিও শুটিং চলছিল! তিনজন যুবতীকে আটক করা হয়েছে, যাঁরা কাজের প্রলোভনে এখানে এসে ফেঁসে গিয়েছিলেন। অডিশনের নামে তাঁদের ডেকে আনা হয়, তারপর মোটা অঙ্কের টাকার টোপ দিয়ে রাজি করানো হয় পর্নোগ্রাফিক ভিডিও শুটিংয়ে। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের এই কাজ করতে বাধ্যও করা হতো।
আরও পড়ুনঃ Weather update : ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই তাপমাত্রা, রবিবারও তাপপ্রবাহের সতর্কতা! কতদিন চলবে এই ভয়ংকর গরম?
তদন্তে আরও জানা গেছে, উজ্জ্বল ও নীলু আগে রাশিয়ায় থাকতেন এবং সেখানেও একই ধরনের ব্যবসা চালাতেন। ভারতে ফিরে আসার পর তাঁরা নতুন করে নিজেদের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। তাঁদের অনলাইন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যত গ্রাহক সাবস্ক্রিপশন নিতেন, তার ৭৫ শতাংশ তাঁরা নিজেদের কাছে রেখে দিতেন, বাকি ২৫ শতাংশ দিতেন সংশ্লিষ্ট মডেলদের। তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—নেদারল্যান্ডের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্তত ৭ কোটি টাকা জমা পড়েছে, যা তাঁদের বেআইনি লেনদেনেরই অংশ। ইডি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।





