Weather update : ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই তাপমাত্রা, রবিবারও তাপপ্রবাহের সতর্কতা! কতদিন চলবে এই ভয়ংকর গরম?

গ্রীষ্ম মানেই পশ্চিমবঙ্গে চড়া রোদ, গনগনে গরম আর হাঁসফাঁস করা পরিবেশ। প্রতিদিন সকাল হতেই সূর্যের তাপ যেন আরও বাড়তে থাকে, রাস্তাঘাট তেতে ওঠে, বাতাস হয়ে ওঠে উত্তপ্ত। গরমের দাপটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ, যাঁদের প্রতিদিন রোদ উপেক্ষা করেই বেরোতে হয় কাজের তাগিদে। দিনের বেলা রাস্তায় চলাফেরা করাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। অনেকেই তীব্র তাপের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, হাসপাতালেও ভর্তি হতে হচ্ছে অনেককে।

এই অসহনীয় গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা আরও করুণ। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিভিন্ন জায়গায় হাসপাতালগুলিতে হিট স্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনের রোগী বাড়ছে। গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে অনেকেই শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকার চেষ্টা করছেন, তবে যারা সাধারণ পরিবেশে রয়েছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। এই তীব্র গরমের মধ্যেই আবহাওয়া দফতর জানাল নতুন আশঙ্কার কথা।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবারও দক্ষিণবঙ্গের চারটি জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করবে। শনিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দুই ডিগ্রি বেশি। রবিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ২.৯ ডিগ্রি বেশি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শহরজুড়ে তীব্র গরমের দাপট অব্যাহত থাকবে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দুই দিনে দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা খুব একটা পরিবর্তিত হবে না। তবে তিনদিন পর থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি কমতে পারে। যদিও এতেই গরমের কষ্ট কমবে না, কারণ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে পাঁচ ডিগ্রি বেশি থাকবে। উত্তরবঙ্গে অবশ্য আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক থাকবে, তবে দার্জিলিং ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় দু’-এক পশলা বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ সূর্যগ্রহণের দিনই শনির রাশি পরিবর্তন! কার ভাগ্য খুলবে, কার জীবনে আসবে বিপর্যয়?

তাপপ্রবাহের কারণে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত অপ্রয়োজনে বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের এই সময়টা ঘরেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত জল পান করা, হালকা খাবার খাওয়া, শরীর ঢেকে রাখা ইত্যাদি নিয়ম মেনে চলার উপদেশ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। অতিরিক্ত গরমের কারণে কিছু স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তনের কথাও ভাবা হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই গরমের হাত থেকে স্বস্তি পেতে গেলে অন্তত আরও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে, কারণ পরবর্তী সপ্তাহের মাঝামাঝি কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে, যা কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles