নয়া দৃষ্টান্ত মোদী সরকারের! এবার কমলালেবু বিক্রেতাও পেলেন পদ্মশ্রী পুরস্কার

নয়া দৃষ্টান্ত স্থাপন করল মোদী সরকার। দেশের চতুর্থ বেসামরিক পদক পদ্মশ্রী পুরস্কার পেলেন এক কমলালেবু বিক্রেতা। এই ঘটনা দেশে যে এক অনন্য নজির গঠন করল, তা বলাই বাহুল্য।

কিন্তু এবার প্রশ্ন উঠতেই পারে যে কেন এক কমলালেবু বিক্রেতাকে এই সম্মানে ভূষিত করা হল? তিনি এমন কী কাজ করেছেন? এই কমলালেবু বিক্রেতার নাম হরেকালা হাজাব্বা। তিনি কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোর শহরে ঘুরে ঘুরে কমলালেবু বিক্রি করেন। দীর্ঘদিন ধরেই এই পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। তাঁর উপার্জনের সামান্য অর্থ দিয়েই তিনি নিজের গ্রামের পড়ুয়াদের জন্য একটি স্কুল তৈরি করেছেন। তাঁর মানবিকতাকে কুর্ণিশ জানাতেই এই পদ্মশ্রী পুরস্কার।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, কমলালেবু বিক্রেতা হাজাব্বা যে গ্রামে থাকেন সেই গ্রামে একসময় কোনও স্কুল ছিল না। নিজের সামান্য রোজগারের কিছু অংশ জমিয়ে জমিয়ে ২০০০ সালে একটি স্কুল তৈরি করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। পরবর্তীতে তিনি ঋণ নিয়ে স্কুলের জন্য জমি কেনেন। বর্তমানে সেই স্কুলে পড়াশোনা করছে ১৭৫ জন ছাত্র। দশম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস রয়েছে এই স্কুলে।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় এই ফল বিক্রেতা বলেন, “এক বিদেশি দম্পতি আমার কাছে এসে একদিন কমলালেবুর দাম জিজ্ঞাসা করেছিলেন। কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি তাদের কথা। আমি টুলু ও বিহারী ছাড়া কোনও ভাষা জানি না। এর ফলে তাঁরা চলে গেলেন। সেদিন আমার খুব খারাপ লেগেছিল। আর তখনই আমি ঠিক করি অন্তত আমার গ্রামের বাচ্চাদের যেন এমন সমস্যায় না পড়ে। আর এর জন্য আমাকে ব্যবস্থা করতে হবে”।

এই হরেকালা হাজাব্বা কর্ণাটকে নিজের গ্রামে ‘অক্ষর সান্তা’ নামে পরিচিত। তিনি আশা রাখেন যে সরকার একদিন তাঁর গ্রামে উচ্চশিক্ষার একটি কলেজ তৈরি করে দেবে। সেই কলেজে পড়াশোনা করে তাঁর গ্রামের ছেলেমেয়েরা একদিন অনেক বড় হবে ও তাদের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।

RELATED Articles