জীবনের আসল সার্থকতা কি শুধুই নিজের স্বার্থে? নাকি অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে নিজেকে উজাড় করে দেওয়া? এই প্রশ্নের উত্তর কিছু মানুষের জীবনেই খুঁজে পাওয়া যায়, যাঁরা অর্থ, খ্যাতি বা আরামের মোহ ছেড়ে মানুষের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করেন। তাঁদের কাজ কোনও পুরস্কারের জন্য নয়, বরং মানবতার প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার জন্য। এঁরা সমাজের সেই নিঃশব্দ নায়ক, যাঁরা জীবনকে অন্যের জন্য বাঁচার মন্ত্রে রূপান্তরিত করেছেন। আজ এমনই একজন মানুষের নাম উঠে এসেছে সমাজের সমাজের দৃশ্যপটে।
এমনই একজন ব্যক্তিত্ব হলেন ৮৩ বছর বয়সী পদ্মশ্রী প্রাপ্ত ডাঃ তপন কুমার লাহিড়ী। কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী এই ডাক্তার দেশ ও সমাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন। দেশের প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট সার্জন ডাঃ লাহিড়ী ১৯৭৪ সালে বিহার হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (BHU)-তে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর অসামান্য দক্ষতা ও সেবার মানসিকতার জন্য তিনি ছাত্র এবং রোগীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হল অর্থের প্রতি উদাসীন থেকে দরিদ্র রোগীদের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা।
১৯৯৭ সাল থেকে নিজের প্রাপ্ত বেতন পুরোপুরি দরিদ্র রোগীদের জন্য দান করা শুরু করেন ডাঃ লাহিড়ী। তিনি কোনও উচ্চবেতনভোগী চিকিৎসকের মতো বিলাসবহুল জীবনযাপন করেননি। বরং, এক হাতে ব্যাগ এবং অন্য হাতে একটি কালো ছাতা নিয়ে প্রতিদিন রোগী দেখতে যেতেন। ২০০৩ সালে BHU থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি নিজের পিএফ এবং পেনশনের বড় অংশও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য দান করেন। এমনকি নিজের হাসপাতাল খুলে কোটি টাকা আয় করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, তিনি তা না করে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা চালিয়ে যান।
তাঁর নিরলস সেবা এবং সাধারণ জীবনযাপনের জন্য ২০১৬ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত করে। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই বয়সেও তিনি প্রতিদিন দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা করছেন। অর্থ বা খ্যাতি নয়, বরং মানুষকে সাহায্য করাই যে জীবনের আসল সার্থকতা, তা বারবার প্রমাণ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ উত্তর-দক্ষিণে আবহাওয়ার বদল! শীতের বিদায়ের মাঝেই বৃষ্টির ইঙ্গিত! কি বলছে আবহাওয়া দপ্তর?
মানবতার সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করা ডাঃ তপন কুমার লাহিড়ী আজও অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা। তাঁর কাজ আমাদের শেখায়, সত্যিকারের ‘অগ্নীশ্বর’ হয়ে ওঠা অর্থহীন বিলাসিতায় নয়, বরং অন্যের জন্য নিজের সবকিছু উজাড় করে দেওয়ায়।






