বিশ্বমঞ্চে যখন শান্তি ও সহযোগিতার কথা বলা হয়, তখন হঠাৎই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত। সম্প্রতি রাষ্ট্রপুঞ্জের ৮০তম সাধারণ সভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুদ্ধজয়ের দাবি জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ জিতেছি। এবং আমরা বিশ্বে আমাদের অংশে শান্তি চাই।” তবে এই বক্তব্যকে ভারতের প্রতিনিধি তীব্র সমালোচনা করেছেন।
শেহবাজ শরিফ সভায় আরও বলেন, তাদের দেশ বিনা উসকানিতে ভারতের আগ্রাসনের মুখে পড়েছিল। তিনি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং এটিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তবে ভারতের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপুঞ্জে উপস্থিত কূটনীতিক পেটাল গেহলট স্পষ্টভাবে বলেন, “যুদ্ধজয় বা সাহসিকতার কোনো দোষ নেই, কিন্তু বাস্তবতা মিথ্যা দিয়ে পাল্টানো যায় না।” ভারতের দাবি অনুযায়ী, গত ১০ মে পাকিস্তানের সেনাই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছিল।
পেটাল গেহলট আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, “পাকিস্তানই দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট ও আল কায়দার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে সুরক্ষা দিয়েছে। এই জঙ্গি গোষ্ঠীই জম্মু-কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর নৃশংস হামলার জন্য দায়ী।” পাকিস্তানের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরে ভারত এই দেশের দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।
বিশেষভাবে, ভারতের প্রতিনিধি বলেন, “পাকিস্তানের ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়ে ও পোড়ানো হ্যাঙারই প্রমাণ যে যুদ্ধজয় বা সাফল্য দাবি করা একেবারেই অযৌক্তিক। যদি ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামোই জয় বলে মনে হয়, তাহলে পাকিস্তান উদযাপন করুন।” এর পাশাপাশি শেহবাজ শরিফ সিন্ধু জলচুক্তির বিষয়টিও উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে ভারত চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে এবং পাকিস্তানের ২৪ কোটি মানুষের জলের অধিকার রক্ষা হচ্ছে না।]
আরও পড়ুনঃ Delhi Ashram: আশ্রমের ছদ্মপরিচয়ে রাক্ষস!৫০ দিন পলাতক থাকার পর গ্রেফতার পার্থ সারথি!
শেষে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার জন্য। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতা না হলে দক্ষিণ এশিয়ায় পূর্ণমাত্রার ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হতো।” তবে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের যুদ্ধজয় দাবি ও অভিযোগ বাস্তবের সঙ্গে কোনো মিল রাখে না এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তার মুখোশ খুলে গেছে।





