Pahalgam Attack: পহেলগাঁওয়ের গুলিতে হারানো স্বামীর স্মৃতিতে বন্ধ ঠাকুরঘর, বিষাদের ছায়ায় স্তব্ধ দুর্গাপুজো!

ঠাকুরঘরে এ বছর ধূপকাঠি জ্বলেনি, ঢাকের আওয়াজে ওঠেনি আনন্দের সুর। বেহালার জগৎ রায়চৌধুরী রোডের গুহ পরিবারের কাছে দুর্গাপুজো হয়ে উঠেছে বিষাদের প্রতীক। পাঁচ মাস আগে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ হারান কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী সমীর গুহ। সেই মৃত্যু এখনো ছায়ার মতো ভর করে আছে তাঁর স্ত্রী শবরীর জীবনে। চারপাশে উৎসবের আমেজ, কিন্তু এ বাড়িতে নেমে এসেছে শ্মশানের নীরবতা।

যে পরিবার একসময় ভ্রমণপ্রেমী হিসেবে পরিচিত ছিল, ঘোরাঘুরি থেকে ফিরেই দেয়ালে সাজিয়ে রাখত স্মৃতিচিহ্ন ম্যাগনেট, তাদের জীবন এখন ওলটপালট। দোতলার ফ্ল্যাটে ঢুকলেই বোঝা যায় পরিবর্তনের চাপ। ড্রয়িংরুমে সমীরের একার ছবি, গলায় মালা, পাশে কিছু ফুল—এই হলো পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু। আর যে ঠাকুরঘরে একসময় নিয়মিত পূজা-অর্চনা হত, সেখানে আজ নেই একটিও পাপড়ি। ভক্তি-আস্তিকতার জায়গায় এখন বিরূপতা এসে দাঁড়িয়েছে। শবরী গুহ বলেন, “এত পুজো করেও কিছুই হল না, আজ আর আমার বিশ্বাস থাকে না।”

অর্থনৈতিক চাপও ক্রমে যন্ত্রণার বোঝা বাড়াচ্ছে এই পরিবারে। বেহালার ফ্ল্যাটের জন্য প্রতি মাসে ৪৫ হাজার টাকার কিস্তি এখনও শোধ দিতে হয়। তার সঙ্গে সংসারের খরচ, সদ্য কলেজে ভর্তি হওয়া কন্যা শুভাঙ্গীর পড়াশোনার খরচ মিলিয়ে যেন দমবন্ধ অবস্থা। শবরীর একটাই দাবি—স্বামীর চাকরিতে পরিবারের কাউকে নিয়োগ করা হোক। যদিও আবেদন জানানো হয়েছে দিল্লিতে, কিন্তু পাঁচ মাস পার হলেও সরকারি ভাবে কেউ এখনও যোগাযোগ করেনি। ক্ষোভ ঝরে পড়ে তাঁর কণ্ঠে, “আমাদের খবর নিতেও কেউ এল না, শুধু তদন্ত করতে এসেছিল এনআইএ।”

সমীর ছিলেন ভীষণ পারিবারিক মানুষ। চাকরির বদলির কারণে কখনও দিল্লি, কখনও ছত্তীসগড়—যেখানেই থাকুন না কেন, পরিবারই ছিল তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার। ভ্রমণের জন্যও ছিলেন উৎসাহী। দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল কাশ্মীর ঘুরতে যাবেন। অবশেষে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হল ঠিকই, কিন্তু সেখানেই ঘটল চিরকালের অন্ধকার নামানো ঘটনা। সবুজ উপত্যকার মাঝে পরিবারের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়েই আচমকা গুলির বন্যায় প্রাণ গেল তাঁর। কয়েক মুহূর্তেই ঘুরে দাঁড়াল গুহ পরিবারের জীবন।

 

আজ দুর্গাপুজোর সময়ে যেখানেই ঢাক বাজছে, আলো ঝলমল করছে, সেখানেই বেহালার এই বাড়ির দরজা যেন বন্ধ হয়ে রয়েছে দুঃখের খাতায়। মায়ের বোধনে আলো জ্বলে উঠলেও শবরীর মনে অন্ধকারই থেকে গেছে। এখনও স্বামীর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো আঁকড়ে বাঁচেন তিনি। তবে ভরসা রাখতে চান ভবিষ্যতের ওপর, হয়তো কোনো দিন আবার বিশ্বাস ফিরে আসবে, আবার পূজোর রঙ ছড়িয়ে পড়বে তাঁদের ঘরে। কিন্তু এখন শুধু অপেক্ষা—একাকীত্ব আর লড়াইয়ের।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles