কথিত রয়েছে, প্রভুরাম তাঁর সৈন্যবাহিনী নিয়ে সীতা উদ্ধারের জন্য লঙ্কায় পৌঁছন। সীতাকে উদ্ধার করার পর পাম্বান দ্বীপে লিঙ্গ রূপের শিবের আরধনা করেন রাম, কারণ তাঁর মনে অনুশোচনা ছিল যে রাবণকে বধ করে তিনি বাহ্মণ হত্যা করেছেন। সেই সময় থেকেই এই স্থান ভারতের চতুর্থ তীর্থক্ষেত্র রামেশ্বরম নামে পরিচিত।
ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে রামেশ্বরম যাত্রার জন্য ১৯১৪ সালে সমুদ্রের উপর একটি দীর্ঘ ব্রিজ তৈরি করা হয়, যা পাম্বান ব্রিজ নামে পরিচিত। পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক অথচ রোমাঞ্চকর রেলপথ হল এই পাম্বান ব্রিজ। এটি ভারতের দ্বিতীয় দীর্ঘতম সমুদ্র সেতু। তবে কালের নিয়মে অনেক ঝড় ঝাপটা সামলাতে হয়েছে এই ব্রিজকে। ফলে একটা সময় বন্ধ করে দেওয়া হয় এই রেলপথ। বিকল্পে ১৯৮৮ সালে সড়ক পথের মাধ্যমে রামেশ্বরমের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। সড়কপথের এই ব্রিজ ইন্দিরা গান্ধী রোড ব্রিজ নামে পরিচিত।
কিন্তু এবার এই পাম্বান ব্রিজকেই উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে গড়ে তোলা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, উলম্ব এই রেল ব্রিজ জাহাজ চলাচলের সময় খোলা ও বন্ধ করা যাবে। ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই ব্রিজ উলম্বভাবে উপরে তোলা ও নামানো যাবে।এর সঙ্গে ট্রেনের ইন্টারলকড ও জাহাজ চলাচলের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থাও যুক্ত থাকবে। এই নতুন ব্রিজ গড়ে তোলার দায়িত্বে রয়েছে রেলওয়ে বিকাশ নিগম লিমিটেড। এর দৈর্ঘ্য ২.০৭ কিলোমিটার। নতুন বছরেই খুলবে এই ব্রিজ।
https://twitter.com/RailMinIndia/status/1312997856635092992
রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জানিয়েছেন যে নতুন এই পাম্বান ব্রিজ খুলে গেলে ভারতের তীর্থযাত্রীরা সহজেই রামেশ্বরম আসতে পারবেন। রামেশ্বরম মন্দির ও জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির দেখতে তাহলে সারাবছর এই স্থানে আসতে পারবেন তীর্থযাত্রীরা। এর ফলে এখানকার অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে। ২০২১ সালের মধ্যেই এই ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।






