আজও জীবিত রামের বংশধররা, রামমন্দির তৈরি হওয়ায় ৫০০ বছরের ব্রত ভেঙে ফের পাগড়ি পরলেন সূর্যবংশীরা

আর মাত্র কিছু ঘণ্টার অপেক্ষা। এরপরই এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে চলেছে গোটা পৃথিবীর মানুষ। রাত পোহালেই অযোধ্যার রামমন্দিরের উদ্বোধন। আর এই রামমন্দিরের গঠনের মধ্যে দিয়েই ঘটল আরও এক ঘটনা। ৫০০ বছরের ব্রত ভাঙলেন সূর্যবংশীরা।

অযোধ্যার সরাইরাসি গ্রামের বাসিন্দা এই সূর্যবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ। ৫০০ বছর আগে তাদের পূর্বপুরুষরা শপথ নিয়েছিলেন যে অয্যোধ্যায় রামমন্দির প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত মাথায় পাগড়ি পরবেন না তারা। অবশেষে রামমন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে রামলালার। সেই কারণে অবশেষে নিজেদের ব্রত ভাঙলেন সূর্যবংশীরা।

https://twitter.com/ANI/status/1748015035081961824

কারা এই সূর্যবংশী?

রাজপুত সম্প্রদায়ের মধ্যে তিনটি অংশ রয়েছে। তাদের মধ্যেই একটি অংশ হলেন এই সূর্যবংশীরা। বাকি দুই ভাগ হল- চন্দ্রবংশী ও অগ্নিকূল। বলা হয়, চন্দ্রবংশীরা হলেন কৃষ্ণের বংশধর। অগ্নিকূল হল অগ্নিদেবের পরিবার আর সূর্যবংশীরা হলেন রামের বংশধর। তেমনটাই দাবী করেন তারা।

অত্যন্ত প্রাচীন একটি শহর হল অয্যোধ্যা। হিন্দুদের বিশ্বাস, এই শহরেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্রভু রাম। খ্রিস্টীয় একাদশ এবং দ্বাদশ শতকে অযোধ্যাতেই উত্থান ঘটেছিল কনৌজ রাজ্যের। সেই সময় অযোধ্যাকে বলা হত আওধ।

পরে এই অয্যোধ্যা দিল্লির সুলতানশাহি, জৌনপুর রাজ্য ও অবশেষে ষোড়শ শতকে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। উত্তর ভারতে যখন মুঘল সম্রাট বাবর হামলা চালান, সেই সময় রাজপুতরা একজোট হয়ে প্রতিবাদ করেন। মুঘল বাহিনীকে প্রতিরোধ করেছিলেন তারা। কিন্তু ১৫২৮ সালে বাবরের সেনাপতি মীর বাকি অযোধ্যার রামমন্দিরে হামলা চালায় ও মন্দির ধ্বংস করে। তারা সেখানে গড়ে তোলেন বাবরি মসজিদ।

আজও জীবিত রামের বংশধররা, রামমন্দির তৈরি হওয়ায় ৫০০ বছরের ব্রত ভেঙে ফের পাগড়ি পরলেন সূর্যবংশীরা

কী পণ নিয়েছিলেন সূর্যবংশীরা?

কথিত রয়েছে, রামমন্দির ধ্বংস হওয়ার পর সূর্যবংশী ঠাকুররা শপথ নিয়েছিলেন, সেই জায়গায় যতদিন না পর্যন্ত রামমন্দির নির্মাণ হচ্ছে, ততদিন তারা তাদের মাথায় পাগড়ি পরবেন না। কারণ তাদের পাগড়ি তাদের সম্মান ও গৌরবের প্রতীক। সেই কারণে রামমন্দিরের গৌরব ফিরে না আসা পর্যন্ত, তারা সেই গৌরবের প্রতীক মাথায় ধারণ করবেন না বলে শপথ করেন।

১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদে হামলা চালান করসেবকরা। মসজিদ ভেঙে দেন তারা। ২০১৯ সালে সুপ্রিমকোর্ট নির্দেশ দেয় যে অয্যোধ্যায় ওই জায়গায় রামমন্দির নির্মাণ করা যাবে। এরপরই শুরু হয় রামমন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি।

আজও জীবিত রামের বংশধররা, রামমন্দির তৈরি হওয়ায় ৫০০ বছরের ব্রত ভেঙে ফের পাগড়ি পরলেন সূর্যবংশীরা

২০২৩ সালেই মন্দিরের গর্ভগৃহের নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে মন্দিরের নির্মাণের কাজ এখনও কিছুটা বাকি। কিন্তু এর আগেই আগামীকাল, সোমবার রামমন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে রামলালার। বাবরি মসজিদ নির্মাণের ৫০০ বছর পর ফের সেখানে ফিরছে রামমন্দিরের গৌরব। সেই কারণেই ৫০০ বছরের শপথ ভেঙে এবার ফের পাগড়ি পরতে শুরু করেছেন সূর্যবংশী ঠাকুররা।

RELATED Articles