করোনার নিয়মে কি আসতে চলেছে শিথিলতা? ভিডিও কনফারেন্সিং-এ বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

করোনা মোকাবিলার আগামী পদক্ষেপ কি হতে চলেছে তা নিয়ে সোমবার সকালে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিং করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের খবর জারি থাকা লকডাউনকে ‘ধাপে ধাপে’ শিথিল করার কথা আলোচনা হতে পারে বৈঠকে। গত ৩রা মে সরকারিভাবে দেশে লকডাউনের দ্বিতীয় পর্ব শেষ হতে চলেছে তার আগেই করোনা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র।

১১ই এপ্রিল দ্বিতীয় দফার লকডাউন শুরুর আগেও করোনাভাইরাস অতিমারী রোখার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে মোদির ভিডিও কনফারেন্সিং করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই শেষ বৈঠকে একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা ২১ দিনের লকডাউনের মেয়াদ ১৪ এপ্রিলের পর আরও ২ সপ্তাহ বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেন।এরপর প্রধানমন্ত্রী ৩রা মে পর্যন্ত লকডাউন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

এরআগেও ২৪শে মার্চ প্রথম দফার লকডাউন ঘোষণার আগে ২০শে মার্চ প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কোভিড-১৯ ঠেকানোর কৌশল নিয়ে প্রথম মতামত বিনিময় করেন।

এরপর তৃতীয়বার মহামারী রুখতে সব মুখ্যমন্ত্রীদের সাথে বৈঠকে বসলেন তিনি। প্রায় এক মাসের লকডাউনের জেরে বিধ্বস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি। সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এবার দেশবাসীর এই সমস্যার সুরাহা করতে স্তব্ধ অর্থব্যবস্থাকে পুনরায় ঠিক করতে নানা ক্ষেত্রে অল্প অল্প করে নিয়মবিধি শিথিল করছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। যদিও কয়েকটি রাজ্য ৩রা মে-র পরও লকডাউন জারি রাখার পক্ষেই সায় দিয়েছেন।

রবিবার সকালে এই মাসের ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে দেশবাসীকে সাবধানতা, সতর্কতা অবলম্বন করে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির লকডাউনের কঠোর নিয়মবিধির রাশ কিছুটা আলগা করার প্রেক্ষাপটেই তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, আপনাদের অতিরিক্ত আত্নবিশ্বাসী না হতে আবেদন করছি। আপনার শহর, গ্রাম, এলাকা, রাস্তা বা অফিসে কেউ করোনা পজিটিভ ধরা না পড়লে এখনই ভেবে নেবেন না যে ভয়ের কিছু নেই। এমন ভুল যারা করেছেন তারা আজ তাদের কর্মের জন্য অনুতাপ করছে। গোটা দুনিয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে।

কেন্দ্র চলতি লকডাউনের মধ্যেই শহর এলাকায় আবাসিক কমপ্লেক্সের আশপাশের এবং পাড়ার কিছু দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু বাজারের ভিতরের দোকানপাট বন্ধ থাকবে ৩রা মে পর্যন্ত। গ্রামীণ এলাকায় শপিং মল ছাড়া সব দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতের এক আদেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানায়, মল বন্ধ থাকলেও গ্রামীণ এলাকায় বাজারগুলি বসতে পারে। যদিও কোভিড-১৯ সংক্রমিত হটস্পট ও কনটেনমেন্ট জোনে দোকান খোলার অনুমতি নেই পাশাপাশি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অত্যাবশ্যক নয়, এমন পণ্যসামগ্রী ও মদ বিক্রির ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

RELATED Articles

Leave a Comment