করোনা পরিস্হিতি নিয়ে দেশে পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে চলেছে এবার তা নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সাথে আলোচনায় বসবেন প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীর মনে এখন লকডাউন নিয়ে হাজারো প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। তার মধ্যে প্রধান প্রশ্ন হলো লকডাউন কি ৩রা মে-তেই শেষ হচ্ছে নাকি আরও বাড়তে চলেছে এর সময়সীমা? অন্যদিকে করোনা আতঙ্কিত মানুষের প্রশ্ন যদি লকডাউন উঠে যায় তবে সংক্রমন রোধে বিকল্প হিসাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে? এইসব প্রশ্নের উত্তর আজ মিলতে পারে প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে।
গত কাল সব রাজ্যের শীর্ষ পর্যায়ের অফিসারদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিবের ডাকা ভিডিয়ো বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্যগুলির শীর্ষ কর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে রাজ্যের কথা বলার সুযোগ নেই, এই কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলে বৈঠকে মুখ্যসচিব রাজীব সিনহার থাকার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জল্পনা উড়িয়ে বৈঠকে যোগ দেন মমতা।
মূলত, এদিনের বৈঠকে তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে জানা যাচ্ছে। যার মধ্যে প্রথম হলো পরিযায়ী শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ। ভিন্ন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকরা লকডাউনের জেরে সেখানেই আটকে পড়েছেন।দিনমজুরির কাজও এখন তাদের বন্ধ। এমতাবস্থায় সংসারে অন্নের অভাব, বাসস্থানের ভাড়া বাকির জেরে তারা বারংবার নিজের রাজ্যে ফিরতে চেষ্টা করছে। তাই এবার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজ নিজ রাজ্যে ফেরানো নিয়ে ভবিষ্যতে কী ভাবে এগোনো হবে সেই নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তাঁদের রাজ্যে ফেরানোর জন্য বিশেষ বাস পরিষেবা চালু করা যেতে পারে কিনা এবং সেই বাসগুলিকে অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে দিয়ে নিয়ে আসা যাবে কিনা সেই নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন। যে সব রাজ্যগুলি থেকে মুম্বই, দিল্লির মতো শহরে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক গিয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে বিহার। কেরল থেকে প্রায় ৫ লক্ষ মালায়ালি শ্রমিক বিদেশে আটকে পড়েছেন, তাঁদের রাজ্যে ফেরানো নিয়ে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
দ্বিতীয় বিষয়, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইতে পারে রাজ্যগুলি। গত ২০শে এপ্রিলের পর কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকাগুলিতে দোকান ও কারখানা খোলা হয়েছে। তবে ৩ তারিখ লকডাউন না উঠলে আরও কীভাবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ছাড় দিলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রকে সচল রাখা সম্ভব তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
লকডাউন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ঠিক কী করা প্রয়োজন, তা নিয়ে একটি রূপরেখা তৈরী হয়েছে গত বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে। এদিনের বৈঠকে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীরা সেই বিষয়টির ওপরই জোর দিতে পারে বলে খবর। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ইস্যু হতে পারে, রাজ্যের বহু ট্রাক ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে আটকে রয়েছে, সেগুলিকে কীভাবে ফেরানো সম্ভব। পাশাপাশি কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইতে পারে পশ্চিমবঙ্গও।
এক্ষেত্রে মূলত রাজ্যগুলি করোনা মোকাবিলায় ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।রাজ্য এক্ষেত্রে অভিযোগ করতে পারে, ICMR-এর পাঠানো কিট নিয়ে। রাজ্যগুলি ঠিকমতো পিপিই-সহ সমস্ত জিনিস মতো পাচ্ছে কিনা, তা জানতে চাইতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া করোনা মোকাবিলায় রাজ্যগুলির চিকিৎসা পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
কোনও কোনও রাজ্যে লকডাউন সর্বতোভাবে মানা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করতে পারেন বলে খবর। সর্বোপরি মনে করা হচ্ছে, ৩রা মে দেশের দিল্লি, কলকাতা সহ বড় শহরগুলোতে এখনই লকডাউন তুলতে চাননা কেন্দ্র। উল্লেখ্য, দিল্লি প্রশাসন আগেই জানিয়েছে, লকডাউনের মেয়াদ ৭ই মে পর্যন্ত বাড়াতে চায় তারা।





