দেশকে আত্মনির্ভর (Atmanirbhar) করতে হলে দেশের বুনিয়াদকে আরও জোরদার করতে হবে। আর প্রত্যেকটি দেশের ভিত সেই দেশের গ্রামীণ ভূমি। তাই স্বনির্ভর করতে হবে দেশের প্রত্যেকটি গ্রামকে। তবেই এগিয়ে যাবে ভারত। আর এবার সেই লক্ষ্যেই ভারতবর্ষের প্রত্যেকটি গ্রামকে স্বনির্ভর করতে স্বামীত্ব যোজনা (Svamitva scheme) প্রকল্পের আওতায় প্রপার্টি কার্ড চালু করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এর ফলে গ্রামবাসীরা নিজেদের জমি ও সম্পত্তির মালিকানা থেকে বঞ্চিত হবে না। গ্রামে গ্রামে সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে বিবাদও ঘুচবে বলেই মত তাদের।
কি এই স্বামীত্ব যোজনা?
জানা গেছে এই স্বামীত্ব যোজনার আওতায় আসবে ৬ লক্ষ ৬২ হাজার গ্রাম। ডিজিটাল ভারতে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকাকেও পুরোদস্তুর ডিজিটাল সুযোগসুবিধার আওতায় আনতেই এই স্বামীত্ব যোজনা প্রকল্পের সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। গ্রামোন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা নিতে চলেছে এই যোজনা। এই উদ্যোগে গ্রামের জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত মালিকানা নিয়ে ঝামেলা ঝঞ্ঝাট থাকবে না। একইসঙ্গে ড্রোনের মাধ্যমে গ্রামবাসীদের জমি ম্যাপিং করা হবে। জিপিএস ম্যাপিংয়ে সম্পত্তির খতিয়ান তৈরি হবে। এর ভিত্তিতেই কোন পরিবারের সম্পত্তি কতটুকু সেটা নির্ধারণ করা হবে। জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য নথিবদ্ধ থাকবে ডিজিটাল অ্যাপে। কাজেই মালিকানার ভাগ নিয়ে কোনও বিবাদ হবে না। গ্রামবাসীরা তাদের প্রাপ্য সম্পত্তিই ভোগ করতে পারবেন।
নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যে এটাই প্রথম ধাপ। জেলা থেকে গ্রাম, আত্মনির্ভর হবে প্রতিটি পরিবার। শহর শুধু নয় গ্রামাঞ্চলকেও ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় আনা যাবে। স্বামীত্ব যোজনার সঙ্গেই আরও দুটি ডিজিটাল অ্যাপ চালু করার লক্ষ্যও রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। ই-গ্রাম স্বরাজ অ্যাপ (Swaraj App) ও পঞ্চায়েতী রাজ অ্যাপ (Panchayati Raj App)।
ই-গ্রাম স্বরাজ হল এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেখানে গ্রামীণ পঞ্চায়েতগুলির যাবতীয় তথ্য নথিবদ্ধ থাকবে। পঞ্চায়েতের কাজ কী ভাবে হবে সেই রূপরেখা বাতলে দেবে এই অ্যাপ। কোন কাজে কী অর্থ বরাদ্দ হবে, কোন কাজ কতটা এগোলো, তার খুঁটিনাটি পাওয়া যাবে এই অ্যাপে। ভবিষ্যতে একটাই অ্যাপ থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজের সমস্ত তথ্য পাওয়া যাবে। গ্রামবাসীরাও জানতে পারবেন তাদের পঞ্চায়েত কী কী কাজ করছে গ্রামের উন্নতির জন্য। এতে পঞ্চায়েতের কাজের স্বচ্ছতাও বজায় থাকবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য পঞ্চায়েতরাজ দিবসে প্রতিটি গ্রামকে স্বনির্ভর হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি সূত্রে খবর, প্রায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার মানুষকে এই প্রপার্টি কার্ডের সুবিধা দেওয়া হবে। দেশের ৬টি রাজ্যের সাড়ে সাতশোরও বেশি গ্রামে এই প্রপার্টি কার্ড বিলি করা হবে। এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশের ৩৪৬টি গ্রাম, হরিয়ানার ২২১টি গ্রাম, মহারাষ্ট্রের ১০০টি, মধ্যপ্রদেশের ৪৪টি, উত্তরাখণ্ডের ৫০টি ও কর্নাটকের ২টি গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, লক্ষাধিক গ্রামবাসী এই প্রপার্টি কার্ডের সুবিধা নিতে পারবেন। মোবাইল ফোনে এসএমএস লিঙ্ক পাঠানো হবে। সেখান থেকেই এই কার্ড ডাউনলোড করা যাবে। প্রপার্টি কার্ড প্রত্যন্ত গ্রামগুলির রূপরেখাই বদলে দেবে।





