POK Update: অগ্নিগর্ভ পাক অধিকৃত কাশ্মীর! রক্তাক্ত বিক্ষোভে মৃত্যু-মিছিল, দমননীতির আঁধারে সাধারণ মানুষ

পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) জুড়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ। কয়েকদিন ধরে টানা বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দাদিয়াল, মুজাফফরাবাদ, রাওয়ালাকোট, নীলম ভ্যালি ও কোটলি। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমন করতে পাকিস্তানি সেনারা গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ, আর তাতেই রক্তাক্ত রূপ নিয়েছে প্রতিবাদ। গত চার দিনে কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন পুলিশকর্মীও রয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন, সেনার বাড়াবাড়ি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে। নেতৃত্বে রয়েছে জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (AAC)। মোট ৩৮ দফা দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ। মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে, পাকিস্তানে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য পিওকে-তে বরাদ্দ ১২টি বিধানসভা আসন বাতিল, খাদ্যশস্য ও বিদ্যুতের দামে ভর্তুকি, কর ছাড় এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা উন্নয়ন প্রকল্প সম্পূর্ণ করা। কিন্তু সাধারণ মানুষের দাবি শোনার বদলে সেনার দমননীতি আন্দোলনকে আরও বিস্ফোরক করে তুলেছে।

মুজাফফরাবাদ ও ধীরকোটে সেনার গুলিতে অন্তত দশজন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে ব্যারিকেড ভাঙছে, নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুঁড়ছে। দোকানপাট, বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সব বন্ধ। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে টানা বন্ধ রয়েছে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ও ল্যান্ডলাইন পরিষেবা। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব থেকে অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি, বরং প্রতিদিনই বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাহতের সংখ্যা।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, তাঁর সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথ খুঁজতে প্রস্তুত। নিরাপত্তা বাহিনীকে সংযম দেখাতে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কিন্তু ময়দান থেকে উঠে আসা ছবিগুলি অন্য গল্প বলছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পাক সেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিক ব্রিগেডিয়ার ফইকের নির্দেশেই গুলি চালানো হয়েছে। ইউনাইটেড কাশ্মীর পিপলস ন্যাশনাল পার্টির মুখপাত্র নাসির আজিজ আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন। তাঁদের কথায়, পাক সেনার দমননীতি না রুখলে গণহত্যা অবশ্যম্ভাবী।

আরও পড়ুনঃ স্যর ক্রিক নিয়ে পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি, রাজনাথ সিং বললেন “ইতিহাস-ভূগোল পাল্টে দেবে ভারত”

আসলে ক্ষোভ জমা হচ্ছিল বহুদিন ধরেই। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিকাঠামো ও পানীয় জলের অভাবে জর্জরিত গোটা অঞ্চল। দুর্নীতি, ঘুষ এবং সরকারি কাজে চরম অবহেলা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। নীলম ভ্যালি পাবলিক অ্যাকশন কমিটির মুখপাত্র শওকত নওয়াজ মির কয়েকদিন আগেই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে ‘শাটার ডাউন’ ও ‘চাক্কা জ্যাম’-এর মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার পর থেকেই পাক সেনার গুলিতে শুরু হয় মৃত্যু-মিছিল। এখনো প্রতিদিনই সেই মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে, আর রক্তে রঙিন হয়ে উঠছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পথঘাট।

RELATED Articles