বিচিত্র এ দেশ! শিক্ষা ব্যবস্থার হালচাল কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা কিছু ঘটনা চোখে পড়লেই বোঝা যায়। কোথাও পড়ুয়া রয়েছে, তো শিক্ষক নেই। তো আবার কোথাও শিক্ষক রয়েছে তো পড়ুয়াই নেই। এমনই ঘটনা ঘটেছে বিহারের নীতিশ্বর কলেজে। এই অভিযোগে হতাশ হয়ে নিজের তিন বছরের বেতন ২৪ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে গেলেন ওই অধ্যাপক। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ সেই অর্থ ফেরত নিতে রাজি হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
অধ্যাপক লালন কুমার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন যে এই ৩৩ মাসের প্রতিটি ক্লাসে তিনি হাজির থেকেছেন, কিন্তু একজন ছাত্রও কোনওদিন ক্লাস করেনি। দরজায় দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে গিয়েছেন তিনি। এই কারণে বিবেক দংশনের জেরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তিনি যদি ছাত্র না-ই পড়ালেন, তাহলে বেতন নেবেন কীভাবে? অধ্যাপক লালন কুমারের এই সিদ্ধান্তে বিহারের শিক্ষা মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে উচ্চশিক্ষার হাল নিয়ে।
জানা গিয়েছে, ওই অধ্যাপক বিহারের মুজাফফরপুরের নীতিশ্বর কলেজের হিন্দি ভাষা ও সাহিত্য পড়ান। তাঁর দাবী, ক্লাসে পড়ুয়াদের উপস্থতির সংখ্যা শূন্য। গোটা বিষয়ে তিনি খুবই হতাশ। এই কারণে নীতিশ্বর কলেজে তাঁর কার্যকাল ২ বছর ৯ মাসের বেতন ২৩ লাখ ৮ হাজার টাকা ফেরত দিতে চান ওই অধ্যাপক। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত এই কলেজে থেকে বদলির দাবীও জানিয়েছেন লালন কুমার।
অধ্যাপক বলেন, “আমি যখন কাজে যোগ দিই, তখন আমাকে এমন কলেজে নিয়োগ করা হয়নি, যেখানে স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের পড়ানো যায়। যাঁদের ব়্যাংকিং কম তাঁরা তেমন পোস্টিং পেয়েছেন। এখানে (নীতিশ্বর কলেজ) তো ছাত্রদের দেখাই পাওয়া যায় না”।
যদিও মুজাফফরপুরের ওই কলেজের অধ্যক্ষ মনোজ কুমার অধ্যাপক লালন কুমারের এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর কথায়, “ছাত্রদের শূন্য শতাংশ উপস্থিতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে কোভিডের কারণে গত ২ বছর পঠনপাঠন ব্যহত হয়েছে”। লালন কুমারের অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, এই বিষয়টি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বলা যেত”।
তিনি আরও বলেন যে ওই অধ্যাপক আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিতে চান। সেই কারণেই এত সব নাটক তৈরি করেছেন। যদিও ছাত্রদের হাজিরা খাতা অনুযায়ী, অধ্যাপক লালন কুমারের ক্লাসে কোনও পড়ুয়া উপস্থিত থাকেনি।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আরকে ঠাকুরের এই বিষয়ে জানান, আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে, বাকি বিভাগ গুলির কী হাল”।





