পৃথিবীর মেরুপ্রদেশ। সমস্ত জায়গা পুরু বরফের চাদরে ঢাকা। সেখানে প্রাণের সঞ্চার হওয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সত্যিই কী অসম্ভব? হয়ত না। ছত্রাক, শৈবালের তো দেখা মেলে সেখানে। এব্র সেই জায়গা থেকেই সন্ধান মিলল এক নতুন প্রজাতির উদ্ভিদের।
এমন একটি আবিষ্কার করলেন পঞ্জাব কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ও গবেষক ডঃ ফেলিক্স বাস্ট। বেশ আকস্মিক এই আবিষ্কার। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে গবেষণার কাজে গিয়েছিলেন ফেলিক্স। তখনই অ্যান্টার্কটিকার ভারতীয় গবেষণা স্টেশন ভারতীর কাছেই এই উদ্ভিদ খুঁজে পান তিনি।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে পৃথিবীর মেরুপ্রদেশ যেখানে তাপমাত্রা থাকে -৭৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস, বছরের ৬ মাস সূর্যালোক পৌঁছয় না যেখানে, সেখানে এই সবুজ উদ্ভিদের দেখা মিলল কী করে? তখন থেকেই বিজ্ঞানীরা এই উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করছেন। ৪ বছর ধরে এই উদ্ভিদের ডিএনএ পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে যে এটি এক ধরণের নতুন প্রজাতির উদ্ভিদ।
কিন্তু এমন উদ্ভিদ আগে কেন কারোর চোখে পড়েনি? এর কারণ হয়ত এই উদ্ভিদ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রঙ পরিবর্তন করে। ফেলিক্সের মতে, শীতকালে যখন অ্যান্টার্কটিকার তাপমাত্রা -৭৫ ডিগ্রিতে নেমে যায়, তখন এই মসজাতীয় উদ্ভিদ শুকিয়ে যায়। আবার যখন গ্রীষ্মে একটু বরফ গলে, তখন ফের সবুজ হয়ে ওঠে এই উদ্ভিদ।
জানা গিয়েছে, অ্যান্টার্কটিকায় ভারতের গবেষণা স্টেশন তথা শিক্ষার দেবী সরস্বতীর নামানুসারে এই নতুন উদ্ভিদের নাম দেওয়া হয়েছে ব্রায়াম ভারতিয়েনসিস। ভারতীয় গবেষকের এই আবিষ্কারকে এশিয়া-প্যাসিফিক বায়োডাইভার্সিটি স্বীকৃতি দিয়েছে। শীঘ্রই এই গবেষণাপত্রের পেপার প্রকাশিত হতে চলেছে।





