মুম্বাইয়ের এক মায়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে তাঁর অটিজমে আক্রান্ত সাড়ে তিন বছরের শিশুর জন্য ২০ লিটার উটের দুধ আনার ব্যবস্থা করল ভারতীয় রেলওয়ে। মহিলার শিশুর গরু, ছাগল, মহিষের দুধে অ্যালার্জি রয়েছে। তিনি জানিয়েছিলেন মুম্বাইয়ের কোথাও পাচ্ছেন না উটের দুধ।
শিশুটির মা রেণু কুমারী ট্যুইট করে ছেলের উটের দুধের অভাবে সমস্যায় পড়ার কথা জানান। ট্যুইটে ট্যাগ করেছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রীকে। লিখেছিলেন, স্যার, আমার সাড়ে তিন বছরের ছেলে অটিজমে আক্রান্ত। নানা ধরনের ফুড অ্যালার্জিতেও ভুগছে। ও বেঁচে আছে উটের দুধ আর সামান্য কিছু ডালের ওপর। লকডাউন শুরুর সময় আমার কাছে বেশিদিন চালানোর মতো উটের দুধ ছিল না। আমায় রাজস্থানের সাদরি থেকে উটের দুধ বা তার পাউডারের ব্যবস্থা করে দিতে একটু সাহায্য করুন। ব্যাস, আর তাতেই কাজ হয়ে যায়।
Final update
20 lts. camel milk reached Mumbai by train last night. The family has kindly shared part of it with another needy person in the city.
Thanking Sh.Tarun Jain, CPTM, North-West Railways who ensured an unscheduled halt to pick the container.@RailwaySeva@RailMinIndia https://t.co/fCxI6EJTrX
— Arun Bothra (@arunbothra) April 11, 2020
সিনিয়র আইপিএস অফিসার অরুণ বোথরা ট্যুইট না করলে রেলের এই মানবিক কাজের কথা হয়তো জানাই যেতনা। বোথরা ট্যুইট করে জানান, গতকাল রাতে ২০ লিটার উটের দুধ ট্রেনে মুম্বই পৌঁছেছে। পরিবারটি সেই দুধের কিছু পরিমাণ শহরের আরেক অভাবী পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে। উত্তর-পশ্চিম রেলওয়ের সিপিটিএম শ্রী তরুণ জৈনকে ধন্যবাদ। কন্টেনারটা নেওয়ার জন্য যাতে ট্রেনটা নির্ধারিত রুটিনের বাইরে গিয়ে থামে, সেটা সুনিশ্চিত করেছেন, তাই।
বোথরা সহ সারা দেশের নানা ব্যক্তি ট্যুইটারে নানা পরামর্শ, প্রস্তাব দেন। বোথরা যোগাযোগ করেন রাজস্থানের অদ্ভিক ফুডসের সঙ্গে, যারা দেশের উটের দুধ থেকে তৈরি পণ্যের প্রথম ব্র্যান্ড। তারা বাচ্চাটির জন্যই উটের দুধের পাউডার পাঠাতে রাজি হয়। কিন্তু তা মুম্বইয়ে পাঠানোটাই আসল সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
উত্তর-পশ্চিম রেলওয়ের চিফ প্যাসেঞ্জার ট্র্যাফিক ম্যানেজার তরুণ জৈন জানান, বোথরা বিষয়টা ট্যুইট করায় আমাদের নজরে আসে। আমি আজমেঢ়ের সিনিয়র ডিসিএম মহেশচাঁদ জেওয়ালিয়ার সঙ্গে কথা বলি। আমরা ঠিক করি, লুধিয়ানা আর মুম্বইয়ের মধ্যে চলাচলকারী পার্সেল কার্গো ট্রেন ০০৯০২-কে রাজস্থানের ফালনা স্টেশনে দাঁড় করানো হবে, যদিও সেখানে থামার কথা নয় তার। ফালনা থেকে দুধ সংগ্রহ করে মুম্বইয়ের ওই ভদ্রমহিলাকে পাঠানো হবে। জেওয়ালিয়ার মাধ্যমে বাকি সংশ্লিষ্ট লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে গোটা বিষয়টি সম্পন্ন করা হয়। শীর্ষ কর্তৃপক্ষের সম্মতি নিয়ে ট্রেনটি থামিয়ে বান্দ্রায় ওই মহিলাকে উটের দুধ সরবরাহ করা হয়। আমরা ভারতীয় রেলে আর্থিক লাভ দেখার কথা এখন ভাবছি না। আমাদের এখন দেশের বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে, সাহায্য করতে বলা হয়েছে। আমাদের ট্রেন বর্তমানে দেশের ১৮টা জেলার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে, মানুষকে সাহায্য করতে যা দরকার, আমরা করব বলে তিনি জানিয়েছেন।





