প্রতি বছর পয়লা বৈশাখের আগের রাতে কালীঘাটের মন্দিরে গিয়ে মা কালীর পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এই বছর করোনার প্রকোপে তাঁর সেই চিরাচরিত রেওয়াজে ছেদ পড়লো। শনিবার নবান্নে তা নিয়ে রীতিমতো আক্ষেপের সুরে ঝরে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়।
পয়লা বৈশাখ বাঙালির নতুন বছর। দোকানে দোকানে হালখাতা, মন্দিরে পুজো দিয়ে শুরু হয় নববর্ষ। কিন্তু এই বছর লকডাউনের জেরে কাটছাঁট বাঙালির আনন্দেও। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নতুন বছরটা শুরু হয় কালীঘাটে মায়ের কাছে পুজো দিয়ে। নববর্ষের আগের রাতেই পুজো সেরে ফেলেন তিনি। কিন্তু এই বছর প্রথম কালীঘাটে পুজো দিতে যাবেন না তিনিও। শনিবার রুটিন বৈঠকের পর সেই নিয়ে যথেষ্ট দুঃখ প্রকাশও করেন তিনি।
এদিন তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর মা কালীর কাছে যাই। এবার আর তা হবে না। আমি মা কালীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। সব ঠিক হয়ে গেলে মা কালীর কাছে যাব।’ এর পরই রাজ্যবাসীর কাছে তিনি আবেদন করেন, ‘সবাইকে বাড়িতে থাকতে বলছি। আর নিজে কী করে যাই! তাই সবাইকে বলছি, এবার সকলে বাড়ি বসেই নববর্ষ পালন করুন। বাড়িতে বসেই মনে মনে প্রার্থনা করুন। কালী পুজো, লক্ষ্মী পুজো– যাঁর যা পুজো করার বাড়ি বসেই করুন।’
প্রথম দফায় লকডাউনের মেয়াদ আগামী ১৪ এপ্রিল শেষ হলেও, সংক্রমণ রোধে আরও দু’সপ্তাহ অর্থাৎ ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বরাবরই নিয়মের প্রতি সজাগ দৃষ্টি তাঁর। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর এদিন নবান্নে মমতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আপনারা দয়া করে ঘরে থাকুন। নিয়ম মেনে চলুন।’ গতকাল ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকেও সকলকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান তিনি। পাল্টা শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।





