একদিকে শচীন পাইলট অন্যদিকে আবার মায়াবতী। উভয় সংকটে চরম অস্বস্তিতে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত। আস্থাভোট যদি হয় তাহলে ৬ রাজস্থান বিধায়ককে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে হুইপ জারি করল মায়াবতীর বহুজন সমাজবাদী পার্টি। ওই ৬ বিক্ষুব্ধ বিধায়ক মায়াবতীর দল বিএসপির টিকিটে জিতে এসেছিলেন। পরে কংগ্রেসে যোগ দেন। তবে, এঁদের উপর বিএসপির হুইপ লাগু হবে কিনা সেটা বিতর্কিত বিষয়।
সাল ২০১৮ তে বিধানসভা নির্বাচনে ওই ৬ বিধায়ক বিএসপির টিকিটে জিতে এসেছিলেন। বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার স্বার্থে সেসময় মায়াবতী কংগ্রেস সরকারকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তাঁরা সকলেই কংগ্রেসে যোগদান করেন। এরপরই মায়াবতী গেহলতের বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগ আনেন। বিজেপি ওই বিধায়কদের বিধায়ক পদ বাতিলের দাবি জানায়। কিন্তু রাজস্থান বিধানসভার স্পিকার সি পি যোশী সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। তাই এখনও পর্যন্ত তাঁদের বিধায়কপদ বাতিল হয়নি। বিএসপি বিধায়কের যুক্তি, কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক একসঙ্গে দলত্যাগ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হয় না।
এতদিন বেশ চুপচাপই ছিলেন মায়াবতী। কিন্তু এখন গেহলত সরকার উভয় মুখী চাপে রয়েছে। আর তাই সুযোগকে কাজে লাগাতে মোক্ষম সময় আসরে নেমেছেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ওই ৬ বিধায়কের বিধায়ক পদ বাতিলের দাবিতে জয়পুর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। বিএসপির সর্বভারতীয় সচিব সতীশ মিশ্র আবার দলীয় বিধায়কদের হুইপ জারি করে গেহলত সরকারের বিরোধিতার নির্দেশ দিয়েছেন। স্পিকারকে চিঠি লিখে তাঁরা জানিয়েছেন, হুইপ না মানলে ওই বিধায়কদের বিধায়ক পদ যেন বাতিল করা হয়। তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব মায়াবতীর এই ‘নাটক’কে গুরুত্ব দিতে না চাইলেও সংকটের সময় এই হঠাৎ আসা ঝামেলা নিয়ে চাপে তাঁরাও। কারণ, আপাতত গেহলতের কাছে মোট ১০২ জন বিধায়কের সমর্থন আছে। যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে সামান্য বেশি। এর মধ্যে কোনও কারণে ওই ৬ বিধায়কের বিধায়ক পদ বাতিল হলে, সমস্যা কিন্তু বাড়বেই।





