বাড়িভাড়া বকেয়া ৩৫০০০ টাকা, চাইতে গিয়ে ‘মুসলিম’ ভাড়াটিয়ার হাতে খুন মহিলা, গ্রেফতার এক বৃদ্ধা সহ ২

৩৫ হাজার টাকার বাড়ি ভাড়া বাকি। আর তা চাইতে গিয়েই ভাড়াটিয়ার হাতে খুন হলেন বৃদ্ধা। ঘটনাটি ঘটেছে কর্নাটকে। ৬১ বছর বয়স্কা ওই মহিলাকে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে তিনজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সূত্রের খবর, নিহত মহিলার নাম রাজেশ্বরী। বৃহস্পতিবার ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ কোরামঙ্গলার বাসিন্দা রাজেশ্বরী তার ভাড়াটিয়া আলেম পাশা এবং তার ভাই জিলান এর কাছ থেকে ভাড়া আদায় করতে পার্বতীপুরে গিয়েছিলেন। গত বছরের মার্চ থেকেই পাশা তার বাড়ি ভাড়া মেটাননি। রাজেশ্বরী যখনই বকেয়া অর্থ চাইতে গেছেন তখনই লকডাউনের কারণে ক্যাটারিং-এর ব্যবসাা বন্ধ হয়ে যাওয়ার করুন কাহিনী শুনিয়েছে।

আর সেই কারণেই রাজেশ্বরী আলম পাশাকে প্রথম তিন মাসের ভাড়া ছাড়‌ও দেন। কিন্তু তারপরেও বকেয়া মেটায়নি এই দুই ভাই। আর সেই কারণেই সেদিন গিয়ে রাজেশ্বরী তাদের বাড়ি ছাড়তে বলেন।

এতেই মাথায় খুন চড়ে যায় আলম পাশার। রড দিয়ে রাজেশ্বরীর মাথায় ও ঘাড়ে আঘাত করে সে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার।

এই ঘটনার পর পাশা তার চাচা ইব্রাহিম এবং ঠাকুরমা আশরাফুন্নিসাকে পুলিশের কাছে নিজের আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানালে দুজনেই এর বিরুদ্ধে পরামর্শ দেন।
এরপর ইব্রাহিম, আলেম পাশা, তাঁর ভাই জিলান এবং আশরাফুন্নিনিসা পলিথিন এবং বিছানার চাদরে দেহটি মুড়ে মেরিগোল্ড আন্তর্জাতিক বিদ্যালয়ের কাছে একটি ড্রেনের সামনে পথে কেনা দু’লিটার পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর পর বাড়ি ফিরে ঘর থেকে শুরু করে নিজেদের সাফসুতরো করে নেয় অপরাধীরা।

এদিকে রাজেশ্বরী বাড়ি না ফেরায়, উদ্বিগ্ন ছেলে ড. দীপক এম আর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে। তিনি আত্মীয় ও পরিবারের অন্যান্য লোকেদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন কিন্তু কোন‌ও খোঁজ পান না মায়ের।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য রাজেশ্বরী বাড়িতে জানিয়ে গিয়েছিলেন, যে তিনি পাশার কাছে বাড়ি ভাড়া আদায় করতে যাচ্ছেন।

ঘটনার দিন রাত ১১ টার দিকে দীপক পাশার বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের খোঁজখবর নেন। কিন্তু অভিযুক্ত পাশা দাবি করেন যে রাজেশ্বরী তার কাছ থেকে ভাড়া আদায় করে বাড়ি চলে গেছেন। পরের দিন সকালে, দীপক ফের তার স্ত্রীকে নিয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে যান। পাশার ঘরে ঢুকে দেখতে চান বলে জানান। কিন্তুু তখন অভিযুক্ত দাবি করে তার ঘরের ভেতর ধোঁয়া হয়ে রয়েছে।

এরপরই রাজেশ্বরী ছেলে পাশার প্রতিবেশীদের থেকে একটি পলিথিনে মোড়া জিনিস অটোরিকশা করে নিয়ে যাওয়ার কথা জানতে পারেন। সন্দেহ আর‌ও গাড় হয়। রাজেশ্বরীর কল রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যায় পার্বতীপুরার এমভি লেনে তার ফোনটি শেষবারের মতো বন্ধ হয়। ভাড়াটেদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের সময় পুলিশ পাশা, জিলান ও আশরাফুন্নিসাকে আটক করে। তবে ইব্রাহিম এখন‌ও পলাতক।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা ও প্রমাণ গায়েব করার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

RELATED Articles