মরুরাজ্য ‘বে-হাত’? পদ্মশিবিরে শচীন পাইলট? স্পষ্ট হবে আগামীকাল সকাল দশটায়

কী হবে মরু রাজ্যে? রাজস্থান কী ‘বে-হাত’ হতে চলেছে? এসব প্রশ্নের উত্তর আগামীকাল সকাল দশটায় পাওয়া যাবে। বিক্ষুব্ধ শচীন পাইলট এর মান ভাঙানোর চেষ্টা করেও পারেনি কংগ্রেস। তারপর উপমুখ্যমন্ত্রী ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে তার থেকে। নরম-গরম দুই অবস্থানই শচীনকে দেখিয়েও কোনওভাবেই তাকে বাগে আনতে পারেনি কংগ্রেস।

এই অবস্থায় শচীন পাইলট তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেন সেটাই এখন দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন সকলে। তিনি কি মধ্যপ্রদেশে নিজের বন্ধু জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার পথই অনুসরণ করবেন নাকি অন্য কোনও বিকল্প পথ নেবেন?

আগামীকাল বুধবার সকাল দশটায় সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছেন শচীন পাইলট। সেখানেই স্পষ্ট হবে যে তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন কিনা। হাই কম্যান্ড কিছুতেই শচীন পাইলট কে ঘরে ফেরাতে পারছে না। তাই তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। তাঁর ঘনিষ্ঠ দুই মন্ত্রী বিশ্ববেন্দ্র সিং ও রমেশ মিনাও গদিচ্যুত হয়েছেন।

রাজ্যের প্রবীণ মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট পরিষদীয় দলের বৈঠকের পর রাজ্যপাল রাজ মিস্ত্রির সঙ্গে দেখা করে মন্ত্রিসভা থেকে শচীনকে বরখাস্তের ঘোষণা করেন। ওই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন রাজ্যপাল।

যদি এরপরে টুইটারে নিজের বক্তব্য পেশ করেছেন শচীন। কিন্তু তিনি বেশি কথা বলেননি। সংক্ষেপে বক্তব্য রেখেছেন “সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, তবে পরাজিত নয়।”

সূত্র মতে জানা গেছে যে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়েই যত গন্ডগোল। দলের কাছে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন শচীন কিন্তু কংগ্রেস তাঁর কথা শোনেনি। কিন্তু তাঁর ঘনিষ্ঠদের পদ দেওয়ার কথা বলেছিল কংগ্রেস যদিও তাতে চিঁড়ে ভেজেনি। শচীন বলেছিলেন যে রাজস্থানে কংগ্রেস সরকারের শেষ বছরে অন্তত তাকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হোক। কিন্তু কংগ্রেস তাতে কোনওভাবেই রাজি হয়নি।
অন্যদিকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট দাবি করেন যে গত ছ’মাস ধরে তার সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিজেপির বিরুদ্ধে ঘোড়া কেনাবেচার অভিযোগের তদন্তে নামে রাজস্থান পুলিশ। আর এই সূত্রে নোটিশ যায় শচীন পাইলট এর কাছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া এই নোটিশ শচীনের কাছে আসা সম্ভব নয়। যদিও অশোক গেহলটের দাবি এই তদন্তে তাঁকেও পুলিশি জেরার মুখে পড়তে হতে পারে। আর এই নোটিশ পেয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শচীন।

জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার পর শচীন পাইলট। এক এক করে তরুণ তুর্কিদের হারাচ্ছে কংগ্রেস। মধ্যপ্রদেশের মত রাজস্থানেও দলের একই হাল হয় কিনা তাই এখন দেখার।

RELATED Articles

Leave a Comment