ভারতবর্ষের মতো দেশে বিরল থেকে বিরলতম অপরাধের ক্ষেত্রে কার্যকর হয় ফাঁসি। তবে মাঝে কেটে যায় বহু বছর। যেমন দীর্ঘ ৮ বছর পর ২০২০র মার্চে ফাঁসি কার্যকর করা হয় নির্ভয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের অপরাধীদের।
সেই ঘটনার ১১ মাস পর এবার ফাঁসি কার্যকর হতে চলেছে এক মহিলার। হ্যাঁ স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মহিলাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে। মথুরার জেলে সেই মহিলার ফাঁসির জন্য এখন প্রস্তুতি তুঙ্গে। উত্তরপ্রদেশের একমাত্র ফাঁসি দেওয়া হয় মথুরার জেলে। সেখানেই এবার আমরোহা জেলার শবনম নামে এক মহিলার ফাঁসি হতে পারে। নির্ভয়ার দোষীদের ফাঁসিতে ঝোলানো পবন জহ্লাদ ইতিমধ্যে দুবার ফাঁসিকাঠের পরীক্ষা করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তরফেও ফাঁসির সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। শবনমের ফাঁসি মকুবের আবেদন গিয়েছিল রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে। অপরাধী অপরাধের নৃশংসতার বিচার করে তিনিও ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন l
আর তাই দেশের প্রথম ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত মহিলা অপরাধীর ফাঁসি এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
সূত্রের খবর, মথুরা জেলে মহিলাদের ফাঁসিঘরে শবনমকে ফাঁসি দেওয়া হবে। বহুদিন ধরে অব্যবহৃত রয়়েছে সেই ঘর। জানা গিয়েছে, এই ঘর তৈরি হয়েছিল ১৫০ বছর আগে। তবে কোনওদিন সেখানে ফাঁসি হয়নি।
এমনকী সেখানে ফাঁসিকাঠের ব্যবহারও এর আগে কখনও হয়নি। তাই জেল কর্তৃপক্ষের ওপর বেশ চাপ রয়েছে। ডেথ ওয়ারেন্ট জারি হলেই ওই মহিলা অপরাধীর ফাঁসি হবে। তার আগে সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে জেল কর্তৃপক্ষ। ভারতবর্ষে একমাত্র ফাঁসির দড়ি দিয়ে তৈরি হয় বিহারের বক্সার জেলে। সেখানে থেকেই আসছে দড়ি।
কিন্তু কেনও এই মহিলা অপরাধীকে ফাঁসির মত সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা করা হলো? কি তার অপরাধ? দেখে নেওয়া যাক-
আমরোহা জেলার হাসানপুরের বাসিন্দা শবনম। বাবনেখেড়ি গ্রামের এক শিক্ষকের একমাত্র মেয়ে সে। মোটামুটি সমৃদ্ধ সুফি পরিবারের মেয়ে শবনম ইংরেজি ও ভূগোলে এমএম পাশ করেছিলেন।সম্পর্কে জড়ান সলিম নামের স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে। সলিম ক্লাস ফাইভ ফেল। দিনমজুর হিসাবে কাজ করত সে। উচ্চ শিক্ষিত মেয়ের সঙ্গে সেলিমের সম্পর্ক বাড়ির লোক মেনে নেয়নি। ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিলের রাতে প্রেমিক সেলিমের সঙ্গে মিলে বাবা, মা, দশ মাসের ভাইপো সমেত পরিবারের সাতজনকে কুঠার দিয়ে খুন করে শবনম। পরিবারের সদস্যদের শরীরে ছিন্নভিন্ন করে দেয় দু’জনে।
এই ঘটনা ‘বিরলের থেকেও বিরল’ ঘটনা তকমা পায়। নৃশংসতার বিচারে শবনমকে দোষী সাব্যস্ত করে সুপ্রিম কোর্ট।





